চুম্বকের আকর্ষণে বেরিয়ে এল  ফুসফুসে আটকে থাকা চুম্বক, মুশকিল আসান মেডিকেলে, প্রাণে বাঁচল শিশুপুত্র
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার বাদুড়িয়ার এক শিশুর জীবন বাঁচাল কলকাতা মেডিকেল কলেজ। ছ’বছরের শিশুটির নাম আরাকা তালিক। খেলতে খেলতে সে একটি চুম্বক গিলে ফেলেছিল। শ্বাসনালী দিয়ে গিয়ে সেটি ডানদিকের ফুসফুসে আটকে যায়। শুরু হয় বেদম কাশি। মঙ্গলবার তাকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হলে ইএনটি বিভাগে ভরতি করা হয়। রিজিট ব্রংকোস্কপির মাধ্যমে বুধবার চেষ্টা করা হয় চুম্বকটি বের করে আনার। কিন্তু যতবার সেই চেষ্টা করা হয়, ততবারই পিছলে ফের ফুসফুসে  গিয়ে আটকে যায়। ঠিক হয়, শিশুটিকে আপাতত মেডিকেল কলেজের আইসিউতে রাখা হবে। পিজি হাসপাতালে পিকুর বেড খালি হলে সেখানে ট্রান্সফার করা হবে। সেখানে কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে বুক কেটে চুম্বকটি বের করা হবে।

Advertisement

যাঁর অধীনে শিশুটি ভরতি, মেডিকেলের ইএনটি বিভাগের সেই সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় শেষে ভাবেন, চুম্বক দিয়ে ওই চুম্বককে বের করে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আসার আগে বাড়ির কাছে মানিকতলা এলাকায় প্রভাকর কাঁড়ার নামে এক মেকানিকের কাছে যান তিনি। তিনি ওই চিকিৎসকের বলে দেওয়া মাপ অনুযায়ী একটি শক্তিশালী চুম্বক কেটে তৈরি করে দেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মেডিকেল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান ডাঃ সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাঃ দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের ডাঃ দেবাশিস ঘোষের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রসিডিওর। মানিকতলা থেকে নিয়ে আসা চুম্বকটি শ্বাসনালী দিয়ে ডানদিকের ফুসফুস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ভিতরে থাকা চুম্বকটি আকর্ষিত হয়ে তাতে আটকে যায়। এরপর ধীরে ধীরে দু’টি চুম্বককেই বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়। 
ডাঃ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের শ্বাসনালীর ব্যাস মোটামুটি সাড়ে তিন মিলিমিটার। তার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আড়াই মিলিমিটার ব্যাসের চুম্বকটি বানানো হয়েছিল। তাতেই কাজ হল। আশা করছি ওকে দ্রুত ছুটি দিতে পারব। প্রভাকরের মতো সহানুভূতিশীল মেকানিকের প্রশংসা করতেই হবে। যোগাযোগ করা হলে মানিকতলার সেই প্রভাকর বলেন, রোজ এই কাজই করছি। একটা বাচ্চার প্রাণ বাঁচলে নিজের ভালো লাগবে। সেই ভেবে ডাক্তারবাবুকে ওটা বানিয়ে দিয়েছিলাম।