বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সোম থেকে শনি আউটডোর। রোগী দেখতে বসেন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসকরা। কেউ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে এমডি তো কেউ সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় ডিএম। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড থেকে শুরু করে স্ক্রাব টাইফাস—কোন পরীক্ষা হয় না! এমনকি ফ্লু প্যানেল বা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানেলও হয় এখানে। খরচ? মাত্র ২ টাকা। জ্বরজারিতে ২ টাকার আউটডোর টিকিটে এভাবে প্রায় ১০ হাজার টাকার চিকিৎসা-পরীক্ষা সবই সম্ভব মেডিকেল কলেজস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন (এসটিএম)-এ। কিন্তু এত সরকারি ব্যবস্থা থাকলেও ট্রপিক্যালে রোজ চলা (৬ দিন) ফিভার ক্লিনিকে আউটডোরে গড়ে রোগীর সংখ্যা দশও পেরয় না। সোমবার গিয়ে দেখা গেল, বিকালে তুমুল ভিড় আউটডোরে। কিন্তু সিজন চেঞ্জের এই ভরা সময়ে জ্বরের জন্য নয়। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখাতে। চিকিৎসক মহলের একাংশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে প্রচার কই! যদি একটা গ্লোসাইনও থাকত বা বোর্ড, তাহলেও বহু মানুষ জানতে পারত। এ বিষয়ে ট্রপিক্যালের কার্যনিবাহী অধিকর্তা ডাঃ দিবাকর হালদার মঙ্গলবার বলেন, ‘ব্যাপারটা ঠিক এমন নয়। আসলে ম্যালেরিয়া ক্লিনিক, ট্রপিক্যাল মেডিসিন, সংক্রামক ব্যধি, ফিভার ক্লিনিক সবেরই আউটডোর আছে। সব মিলিয়ে দৈনিক জ্বরের রোগী নেহাত কম নয়। একশোর কাছাকাছি।’
অধিকর্তা এ কথা বললেও সরকারি হিসাব বলছে অন্য তথ্য। সেখানে প্রতিটি আউটডোরে রোজ কত রোগী এলেন, তার পৃথক হিসাব রয়েছে ট্রপিক্যালে। আউটডোর ধরে ধরে কত রোগী এলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের সরকারি পোর্টালে (আইএইচএমএস) সেই হিসাব নথিবদ্ধ করা হয়। তার তথ্য বলছে, এ বছর অক্টোবর মাসের গোড়ায় ১, ২, ৩, ৫ এবং ৬—এই পাঁচদিনে যথাক্রমে ফিভার ক্লিনিকে রোগীর সংখ্যা ১, ৪, ৪, ৭ এবং ৯। ২৭, ২৮,২৯ এবং ৩০ অক্টোবর—মাসের শেষদিকের এই চারদিনে ফিভার ক্লিনিকে দেখাতে এসেছেন যথাক্রমে ২, ৩, ৫ এবং ৩ জন রোগী।
বেসরকারি চিকিৎসক মহল সূত্রের খবর, তাদের কছে আসা একজন জ্বরের রোগীকে মোটামুটি খরচ করতে হয় ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা। ডাক্তারের ফিজ কমবেশি ১০০০-২০০০ টাকা। তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জ্বর থাকলে সিবিসি, সিআরপি, ডেঙ্গু (এনএস১, আইজিএম), ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড মিলিয়ে কমবেশি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা। তবে একটু বয়স্ক রোগী এবং সুগার, প্রেশার, কিডনির অসুখসহ নানা ধরনের কো-মরবিডিটি থাকলে অনেকসময় ফ্লু প্যানেল বা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানেল টেস্ট করাতে হয়। তাতে আরও খরচ পড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। সেখানে মাত্র ২ টাকার টিকিটে এই সবকিছুর সুবিধা থাকলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক রোগী হচ্ছে না বলে অভিযোগ।



