Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগ দিতে নারাজ বিপুল সংখ্যক মহিলা

মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করতে জেলাগুলিকে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল পঞ্চায়েত দপ্তর। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, একটা বড় অংশের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে নাম লেখাতে রাজি নন।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগ দিতে নারাজ বিপুল সংখ্যক মহিলা
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করতে জেলাগুলিকে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল পঞ্চায়েত দপ্তর। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, একটা বড় অংশের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে নাম লেখাতে রাজি নন। কারণ হিসেবে কেউ বলছেন, তাঁরা চাকরি করেন। তাই দলে সময় দিতে পারবেন না। কেউ বলেন, এতে তাঁদের কোনও লাভ ও আগ্রহ, কোনওটিই নেই। প্রায় সব জেলায় এমন ছবি উঠে এসেছে।

Advertisement

বর্তমানে রাজ্যে এক কোটির বেশি মহিলা বিভিন্ন জেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য। কিন্তু দপ্তর মনে করছে, এখনও আরও এক কোটির বেশি মহিলাকে কোনও না কোনও স্বনির্ভর দলে অন্তর্ভুক্ত করা বাকি রয়েছে। সেই অনুসারেই এবারে দল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। সেটা পূরণ করতেই বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, বারুইপুর, বারাসত কিংবা শ্রীরামপুরের মতো শহরতলিতে সমীক্ষক দল খুব বেশি মহিলাকে স্বনির্ভর দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। শহর ঘেঁষা এলাকা হওয়ায় অনেক মহিলা বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্বনির্ভর দলে ঢুকবেন না। আর যাঁরা চাকরি করেন না, তাঁরা বাড়ির কাজ নিয়েই থাকতে চান।
ক্যানিং বা সুন্দরবন এলাকার বহু মহিলা পরিচারিকার কাজ করতে কলকাতায় আসেন। তাঁদের অনেকের কাছে গিয়ে এই প্রস্তাব দিতেই তাঁরা বলে উঠেছেন, বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা আয় হয়, তাই যথেষ্ট। ওই কাজ 
ফেলে স্বনির্ভর দল করার সময় হবে 
না। তাছাড়া এখানে ঋণ নিয়ে পরে সেটা পরিশোধ করার ব্যাপার আছে। কিন্তু পরিচারিকার কাজ করতে সেসব লাগে না।
সূত্রের খবর, আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ কোটি ৩৪ লক্ষের মধ্যে ৩০ লক্ষের বেশি মহিলার সমীক্ষা করা হয়েছে। তাতে এখনও প্রায় ২০ লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর দলে যোগ দিতে আগ্রহী নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পাঁচ লক্ষের মতো। তবে এখনও অনেক মহিলার বাড়ি যাওয়া বাকি আছে। দপ্তর মনে করছে, স্বনির্ভর দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সংখ্যা আরও বাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ