


সংবাদদাতা, বোলপুর : ভোটের আগে বোলপুর মহকুমাজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত একাধিক গ্রামে এখনও হাজার হাজার ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ কিংবা ‘ডিলিট’ তালিকায় থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বহু ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বোলপুর বিধানসভায় প্রায় ১৬ হাজার, নানুরে ১৫ হাজার এবং লাভপুরে ১২ হাজার ভোটার এখনও বিচারাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক হাজার ভোটারের নাম ‘ডিলিট’ তালিকায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নাম সংশোধন ও তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আশায় সোমবার সকাল থেকেই বোলপুর মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি চত্বরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। রুটি-রুজি ফেলে বিশেষ করে বহু প্রবীণ মানুষ ভোর থেকে নথি হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন লাইনে। এদিন ইলামবাজার থেকে আসা ইউসুফ হোসেন বলেন, আগেও শুনানিতে সব নথি দিয়েছি। তারপরেও ভুল এসেছে নামে। বারবার কাজ কামাই করে আসতে হচ্ছে। এসব কবে ঠিক হবে জানি না। অন্যদিকে, নানুর থেকে আসা আব্দুর রহিম মণ্ডলের কথায়, আমরা বাইরে কাজ করি। এখন এই এসআইআরের জন্য ছু’টি নিয়ে আসতে হয়েছে। আমার ও দাদার নাম বাদ গিয়েছে। বারবার কাগজপত্র নিয়ে আসা খুব বিড়ম্বনার। ভোটের আগে সরকারের এসব করার মানে হয় না।
অন্যদিকে এদিন আদিবাসী নেতা শিবু সোরেন বলেন, নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকেই বেছে বেছে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। বিশেষত, আমাদের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। বোলপুর বিধানসভার ১৬১ নম্বর বুথে ২৫ জন, ১৫৬ নম্বর বুথে ৪৭ জন এবং ১৬৮ নম্বর বুথে ১৮ জনের নাম বিচারাধীন রয়েছে। একইভাবে নানুরের ৪৬ নম্বর বুথে ২২ জন, ৪৭ নম্বর বুথে ৬ জন, ৪২ নম্বর বুথে ৬ জন এবং ৬৮ নম্বর বুথে ৫ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। আগামী শুক্রবার এনিয়ে প্রতিবাদে নামব। এদিন লাইনে দাঁড়ানো প্রশান্ত কিস্কু ও পূজা মুর্মুদের মতো বহু বাসিন্দার অভিযোগ,সব নথি জমা দেওয়া ও শুনানিতে অংশ নেওয়ার পরেও আমাদের নাম তালিকায় ওঠেনি। এভাবে হয়রানি করার কোন মানে হয় না।
অন্যদিকে, মহকুমা প্রশাসনের দাবি, ট্রাইব্যুনালে বিচারকরা নথি খতিয়ে দেখছেন এবং তা কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। এরপর আবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে। তবুও বাস্তব চিত্রে উদ্বেগ কাটছে না। ডিলিট তালিকায় থাকা বহু ভোটারের নাম এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ভোটের আগে কি মিলবে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার?