নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আজ, রবিবার মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান। মাতৃপক্ষের সূচনা হবে। অর্থাৎ বাঙালির মেগা উৎসব দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়বে। বিগবাজেটের বেশকিছু পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনও হবে। তাই শনিবার উত্তরবঙ্গের পুজোর বাজারে নামল ক্রেতাদের ঢল। শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার সর্বত্র বাজারে ছিল ঠাসা ভিড়। মেঘলা আকাশ কিংবা বৃষ্টি কোনও কিছুই আমবাঙালিকে আটকে রাখতে পারেনি। এনিয়ে খুশি ব্যবসায়ীরা। শপিংমল সহ বিভিন্ন দোকানও রাতে দোকান খোলা রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই শিলিগুড়ির আকাশ ছিল মেঘমুক্ত। তাতেই মহালয়ার প্রস্তুতি সাড়ে শিলিগুড়ি পুরসভা। আজ, তারা শহরের প্রায় ৩৭টি মোড়ে মাইকে মহালয়ার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সেইসঙ্গে সম্প্রচার হবে আগমনির গান ও চণ্ডীপাঠ।
শনিবার সকাল থেকেই শহরের বিধান মার্কেট, হকার্স কর্নার, হিলকার্ট রোড, বিধানরোড, হংকং মার্কেট, শেঠ শ্রীলাল মার্কেট, জংশন মার্কেট, এসজেডিএ মার্কেট সর্বত্র ছিল কেনাকাটার ভিড়। বিকেলে বৃষ্টি হলেও পুজোর বাজারে ছন্দপতন ঘটেনি। বিকেলের পর বরং বিভিন্ন বাজার ও বর্ধমান রোড, সেভক রোড ও সিটি সেন্টারের শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে। পোশাক, মেয়েদের সাজসজ্জা, গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারি, জুতা প্রভৃতি দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। সেভক রোডে একটি শপিংমলে কেনাকাটার ফাঁকে হাকিমপাড়ার গৃহবধূ সোমা বিশ্বাস বলেন, গত সপ্তাহে একবার বাজারে এসে পোশাকের কালেকশন দেখে গিয়েছিলাম। এদিন কেনাকাটা করলাম। সুভাষপল্লির গৃহবধূ প্রিয়াঙ্কা সাহা বলেন, রাত পোহালেই দেবীপক্ষের সূচনা হবে। সর্বত্র পুজো পুজো সাজ শুরু হয়েছে। তাই আর অপেক্ষা না করে এদিন পুজোর কেনাকাটা করছি।
ভিড়ের প্রত্যাশা করে ব্যবসায়ীরাও রাতে দোকান খোলা রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছেন। কিছু শপিংমল রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা ঘোষণা করছে। হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনৎ ভৌমিক বলেন, বিকেলে বৃষ্টি হলেও বাজার ভিড়ে জমজমাট। ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো হচ্ছে। আজ, রবিবার বাজারে ভিড় আরও বাড়বে বলেই ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা। চুরি, ছিনতাই ও পকেটমারি রুখতে বাজারগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
এদিন কোচবিহার, দিনহাটা, আলিপুরদুয়ার, মালবাজার, ফালাকাটা, ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়িতেও পুজোর বাজার জমে ওঠে। সব জায়গাতেই ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে। ভালো ব্যবসা হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা।