


উপহার। ছোট্ট শব্দ। কিন্তু তার অভিঘাত সুদূরপ্রসারী। ভাবুন তো, ছোটবেলায় পাওয়া প্রিয় উপহার আজও যত্নে রেখে দিয়েছেন আপনি। আর এখন কাউকে উপহার দেওয়ার প্রয়োজন হলে, প্রথমেই ভাবেন, সেই মানুষটার পছন্দ কেমন। যত্নের পরশ, ভালোবাসার আলিঙ্গন ভরা সেই উপহার যাঁকে দেবেন, তাঁর পছন্দ হবে তো? আর এক্ষেত্রে ব্যক্তিটি আপনার বাবা। সংসারের নানা ওঠাপড়ায় বাবার জন্য, বাবার কথা ভেবে উপহার কেনা সত্যিই আর কতই বা হয়? ক্যালেন্ডার বলছে, রাত পোহালেই ফাদার্স ডে। সে তো সেলিব্রেশনের এক উপলক্ষ মাত্র। পকেট বুঝে বাবার পছন্দ অনুযায়ী কিনে ফেলুন উপহার। শেষ মুহূর্তে আপনার জন্য রইল কিছু পরামর্শ। দৈনন্দিনের চেনা রুটিনে হঠাৎ পাওয়া একটা দিন হয়তো বাবারও একটু ‘বিশেষ’ বোধ হবে।
বই: ‘এমন বন্ধু আর কে আছে?’— বইয়ের জন্য এই গানটা অনায়াসে গেয়ে ওঠা যায়। বই যে কোনও বয়সের সেরা উপহারগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাবার পছন্দের বই কিনে ফেলুন। তাঁর যৌবনে উপহার পাওয়া বই যদি হারিয়ে গিয়ে থাকে, বাবাকে সেই পুরনো বহুবার পড়া বই যদি আবার কিনে দেন, তিনি ফিরে যাবেন চেনা নস্টালজিয়ায়।
গাছ: অবসরযাপনে গাছ অনেকের সঙ্গী। গাছের পরিচর্যায় কেটে যায় দিন। আপনার বাবার নিজে হাতে গড়ে তোলা বাগানে হয়তো নানা ধরনের গাছ ইতিমধ্যেই রয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হোক আপনার দেওয়া উপহারের চারাও। একসময় আপনাকে যে যত্নে বড় করে তুলেছিলেন, আজ ওই চারাকে বড় করে তোলার মধ্যেও বাবা একই আনন্দ খুঁজে পাবেন।
ডে-আউট: ‘উঠল বাই তো কটক যাই’— এই প্রবাদ কি আপনার বাবার সঙ্গে মেলে? তাহলে বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করে ফেলুন। সকালে বেরিয়ে রাতে ফেরা। কলকাতা থেকে দু’-তিন ঘণ্টার দূরত্বে এখন অনেক রিসর্ট তৈরি হয়েছে। মফস্সলের আশপাশেও তৈরি হয়েছে দিনভর বেড়ানোর নানা ঠিকানা। সেখানে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ থাকে ভরপুর। দুপুরে ইচ্ছে হলে কোনও ধাবায় রকমারি খাবার খেতে পারেন।
ঘড়ি: মোবাইলে এখন গোটা বিশ্ব বন্দি। ঘড়ি তো বাহুল্য মাত্র। ফলে সময়ের খোঁজ রাখার জন্য বাবার হাতে থাকা স্মার্টফোনই যথেষ্ট। তাও ঘড়ি আসলে আবেগের আর এক নাম। মোবাইল পূর্ব যুগে কব্জিতে বাঁধা ঘড়ি ছিল স্টাইল স্টেটমেন্ট। কখনও তা রাশভারী ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিত। কখনও বা খেলোয়ারসুলভ চপলতার নির্ণায়ক হতো ঘড়ি। আপনার বাবাও হয়তো এককালে নানা ধরনের ঘড়ি পরেছেন। দীর্ঘ দিনের অনভ্যাসে ঘড়িতে ধুলো জমেছে। বাবাকে তাঁর পছন্দমতো ঘড়ি উপহার দিতে পারেন। সময় বেঁধে রাখা যাবে না ঠিকই। তবে সময়ে সময়ে মনে পড়ে যাবে উষ্ণতার পরশ। আর আধুনিকতার পাঠ দিতে চাইলে স্মার্টওয়াচ কিনে দিন। মর্নিং ওয়াক থেকে ডিনার টাইম— দেখবেন বাবা কত স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছেন।
কলম: পেশা ভেদে বদলে যায় কলমের প্রয়োজন। যদিও আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিবোর্ডে টাইপ করলেই কেল্লাফতে। কিন্তু কলম এক অন্য আভিজাত্যের প্রতীক। শার্টের বুকপকেটে রাখা কলম বুঝিয়ে দেয় মানুষটির পছন্দ কেমন। আর পেশার প্রয়োজনে আপনার বাবা যদি প্রতিদিন কলম ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হন, তাহলে তো এ তাঁর অত্যন্ত কাজের উপহার। বাজেট বুঝে কিনে ফেলুন।
অ্যালবাম: ডিজিটাল যুগে ছবি সংগ্রহ করে রাখা সহজ। ল্যাপটপে এক একটা ফোল্ডার, এক একটা হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তের সাক্ষী। আলমারির তাকে রাখা সাদা-কালো ছবি বোঝাই বড় অ্যালবামের কদর ফুরিয়েছে। হয়তো নষ্ট হয়ে গিয়েছে আপনার বাবার কলেজ জীবনের ছবি। অথবা হলদেটে হয়ে গিয়েছে বাবা, মায়ের বিয়ের নানা স্মৃতিও। এই তো সুযোগ। সেই সব স্মৃতি ফের তাজা করে তোলার দায়িত্ব আপনার। পুরনো ছবি পুনরুদ্ধার করে সাজিয়ে ফেলুন অ্যালবামে। বাবাকে ফিরিয়ে দিন ফেলে আসা সময়ের ভগ্নাংশ।
হাতের কাজের রকমারি: নিজের হাতে তৈরি যে কোনও উপহারই স্পেশাল। বাবার পছন্দের কোনও পদ রান্না করতে পারেন। বাবাকে পছন্দের পারফিউম বাড়িতে তৈরি করে দিতে পারেন। আবার পছন্দের পাঞ্জাবিতে রং দিয়ে ভরাট নকশা করেও উপহার দিতে পারেন। আপনার হাতের ছোঁয়া থাকলে বাবা এমনিতেই খুশি হবেন। আর এই ধরনের উপহারের ক্ষেত্রে আপনার শৈল্পিক সৃজনশীলতাও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
উপহারের তালিকা আরও দীর্ঘ হতেই পারে। চেনা, অচেনা ফুলের মতোই তা রঙিন। তবে আধুনিক সময়ে সবথেকে মূল্যবান উপহার হল ‘সময়’। কোনও আয়োজন ছাড়াই বাবার সঙ্গে কাটানো একটা গোটা দিন হয়তো আপনার কাছে সারাজীবনের উপহার হয়ে থাকবে। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য