সংবাদদাতা, তারকেশ্বর : তারকেশ্বরে রাস্তার পাশে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা নার্সিংহোম। অভিযোগ, বিল্ডিং নির্মাণে মানা হয়নি নিয়ম। নার্সিংহোমের সামনে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। বিল্ডিং নির্মাণের মানা হয়নি জায়গা ছাড়ের নিয়ম। নার্সিংহোম থেকে বেরনোর রাস্তা একটি। দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে মোকাবিলা করবে কর্তৃপক্ষ? কীভাবে অগ্নি নির্বাপণ দপ্তর ও পুরসভার অনুমোদন পেল? জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের নজর এড়িয়ে কীভাবে অনুমোদন পাচ্ছে এই ধরনের হাসপাতাল? উঠছে প্রশ্ন। শাসকদলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
তারকেশ্বর চাউলপট্টি ৮ নং ওয়ার্ডে তারকেশ্বর-বর্ধমান রোডের পাশে প্রায় তিন কাঠা জায়গায় তৈরি হয়েছে নতুন পাঁচতলা নার্সিংহোমটি। দিন কয়েকের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু হবে এখানে। তার আগেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নার্সিংহোমের বিল্ডিং বেআইনিভাবে তৈরি হাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। দু’পাশে বাড়ি। মাঝে ছাড় না দেওয়ায় যাতায়াত করার উপায় নেই। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কোনো বিপদ ঘটলে কীভাবে মোকাবিলা করবে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী জানান, পুরসভা এলাকায় তৈরি বহুতলগুলির বেশিরভাগ বেআইনিভাবেই তৈরি। মানা হয়নি পর্যাপ্ত ছাড়ের নিয়ম। এই নার্সিংহোমের ক্ষেত্রে তার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীরা থাকাকালীন দুর্ঘটনা হলে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বেআইনিভাবে বহুতল নির্মাণ হয়েছে পুরসভা এনওসি দিয়েছে। এনওসি দেওয়ার সময় পুরসভা কেন দেখল না? এর পিছনে রয়েছে আর্থিক লেনদেন। এখানে প্রশাসন চায় অনিয়ম হোক। তবেই ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক উন্নতি হবে তাঁদের।
নার্সিংহোমের মালিক বরুণ ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিল্ডিং নির্মাণে পর্যাপ্ত ছাড় না দেওয়ার কথা এক প্রকার স্বীকার করে নেন। তারকেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু জানান, এই নার্সিংহোমের বিল্ডিং প্ল্যান অনলাইনে হয়নি। আমি পুরপ্রধান থাকাকালীন বিল্ডিং নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।
প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তারকেশ্বর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বপন সামন্ত জানান, অনেক আগে বিল্ডিং নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরে কীভাবে বিল্ডিং নির্মাণ হয়েছে, বর্তমান যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা বলতে পারবেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৈরি বিল্ডিংয়ে নার্সিংহোম। সেখানে একে অপরের উপর দোষারোপ করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা ঘটলে আঙুল উঠবে প্রশাসনের দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে বড়ো বিপর্যয় ঘটতে পারে। নিজস্ব চিত্র