সত্তরোর্ধ্ব মূক-বধির মৃৎশিল্পী আজও প্রতিমা গড়ে চলেছেন
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কানে শোনেন না। কথাও বলতে পারেন না। তবু অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে আজও প্রতিমা গড়ে চলেছেন কৃষ্ণনগরের আনন্দময়ীতলার সত্তরোর্ধ্ব শিল্পী সত্য পাল। মাত্র সাত বছর বয়সে প্রতিমা তৈরিতে তাঁর হাতেখড়ি। সেই শুরু, তারপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মাটির সঙ্গে গড়ে উঠেছে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর শিল্পচর্চার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিজের প্রচেষ্টায় কাজ শিখে আজ তিনি পরিচিত এক প্রতিমাশিল্পী। সত্যবাবু ইশারার মাধ্যমে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করেন। জানা গিয়েছে, ছোটবেলায় অসুস্থতার কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। সত্যবাবুর স্ত্রী গীতাদেবীর কথায়, বিয়ের পর শাশুড়ির মুখে শুনেছিলাম, একেবারে ছোটবেলায় কিছু শব্দ শুনতে পেত আমার স্বামী। ১৮ মাস বয়সে প্রচণ্ড জ্বর হয়। চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তবে এই প্রতিবন্ধকতা তাঁর শিল্পী হয়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সত্যবাবুর বাবা মাটির নানা জিনিস তৈরি করতেন। মাত্র সাত বছর বয়সে বাবাকে কাজে সাহায্য করতে গিয়ে মাটির গলদা চিংড়ির চোখ তৈরি ও পা তৈরির কাজ শুরু করেন। সেখান থেকেই মাটির জিনিস তৈরিতে তাঁর আগ্রহ হয়। বধির হওয়ায় প্রথম দিকে অনেকেই তাঁকে কাজে নিতে চাইতেন না। এরপর অন্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজের চেষ্টায় কাজ শেখেন সত্যবাবু। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন একজন দক্ষ প্রতিমাশিল্পী। মাটির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক আজও তাঁকে প্রতিমা গড়ার কাজে টেনে নিয়ে যায়। বয়সের কারণে বর্তমানে বড় প্রতিমার পরিবর্তে ছোট প্রতিমা তৈরিতেই বেশি মনোযোগ দেন তিনি। তবে কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও আগ্রহের কোনো খামতি নেই। প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি সত্যবাবুকে প্রতিমা তৈরিতে সাহায্য করে চলেছেন তাঁর সহধর্মিনী গীতাদেবী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা বয়স কোনো কিছুই শিল্পীর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement