


রবীন রায়, জয়গাঁ: বীরেন্দ্র বরা ওরাওঁকে ভোটে জেতান। ভোটে জিতলে ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক সীমান্তের জয়গাঁকে পুরসভা করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জয়গাঁতে রোড-শো শেষে এই আশ্বাস দিতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মানুষ। এদিন সভায় তিনি ভোটে জিতলে কালচিনিতে বড় মাপের সরকারি হাসপাতাল তৈরিরও আশ্বাস দেন। অভিষেকের এই আশ্বাসেও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কালচিনির স্থানীয় বাসিন্দারা। এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই এদিন কালচিনির প্রাক্তন বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।
এদিন বিকেল ঠিক সাড়ে ৩টায় জয়গাঁর গোপীমোহন ফুটবল মাঠ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড-শো শুরু হয়। আড়াই কিমি পথের কর্মসূচি শেষ হয় শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় গিয়ে। রোড-শো শেষ হতে এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। রোড-শো জনজোয়ারে পরিণত হয়। বিশেষ করে ছাত্র, যুব ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। রোড-শোর ভিড় দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিষেক। রোড-শো শেষে পথসভায় অভিষেক বলেন, এই ভিড় বলে দিচ্ছে কালচিনিতে এবার জোড়াফুল ফুটবে। জয়গাঁতে দমকল হয়েছে। জয়গাঁর তোর্সা চা বাগানে চা সুন্দরীর ঘর তৈরি হয়েছে। জেডিএ এলাকায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। মেন্দাবাড়িতে কিষানমান্ডি হয়েছে। কালচিনিতে ৭৫ হাজার ৪৩১ জন মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাচ্ছে। খাদ্যসাথী পাচ্ছে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার। কালচিনিতে বাংলা আবাসের ঘর পেয়েছেন ১৫ হাজার ৬০৬ জন। যুবসাথীর টাকা পাচ্ছে ১৭ হাজার বেকার যুবক-যুবতী।
এরপরেই অভিষেক ঘোষণা করে বলেন, বীরেন্দ্রকে জেতান। ভোটের পরে জয়গাঁকে পুরসভা করে দেব আমরা। আমরা কথা দিলে কথা রাখি। অভিষেকের এই কথায় উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন জয়গাঁর বাসিন্দারা। করতালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল। কালচিনিতে বড় মাপের সরকারি হাসপাতাল হবে। অভিষেক গ্যারান্টি দেন যতদিন দিদির সরকার আছে ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাংলা আবাসের ঘর, বার্ধক্য ভাতা, পানীয় জল ও প্রত্যেক শহরে ও ব্লকে হেলথ ক্যাম্প চালু থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমি মিথ্যে বলি না। দিনের পর দিন বিজেপিকে ভোট দিয়ে আর ভুল করবেন না। ২৩ তারিখ লাইনে দাঁড়িয়ে চুপচাপ জোড়াফুলে বোতাম টিপুন।