বিখ্যাত ব্রিটিশ ফিকশন লেখক মার্ক অ্যান্ড্রু এডওয়ার্ডস তাঁর ফিল্মোগ্রাফি নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘স্ট্রং হুইস্কি’! আর সেই মার্কিন চিত্র পরিচালক ডেভিড স্যামুয়েল পেকিনপাকে হলিউড চিনেছিল ‘ব্লাডি স্যাম’ নামে। কারণ, তাঁর হাত ধরেই হলিউডে ঢুকে পড়েছিল ইয়াঙ্কি সংস্কৃতি। রক্তাক্ত দৃশ্যের বহুমুখী প্রভাব!
দারুণ গল্পকার। তার চেয়েও বেশি রোমান্টিক ছিলেন তিনি। অন্ধকার জায়গায় পা ফেলতে ভয় পেতেন না। অ্যাকশন সিনেমা আর সিনেমাকে ওয়েস্টার্ন রূপ দেওয়ার ব্যাপারে পেকিনপা ছিলেন জিনিয়াস। সত্তরের দশকে সেরা পুরুষকেন্দ্রিক সিনেমা তৈরি করেছেন। হলিউড তাঁকে চিনেছে ‘স্লো-মোশন’ বন্দুকের লড়াই এবং ‘অ্যাস কিকিং’-এর জনক হিসেবে। তাঁর সেরা সিনেমাগুলি: ‘মেজর ডানডি’ (পুনরায় তৈরি করা ডিরেক্টর’স কাট), ‘দ্য ওয়াইল্ড বাঞ্চ’, ‘স্ট্র ডগস’, ‘দ্য ব্যাল্যাড অব কেবল হোগ’, ‘দ্য গেটওয়ে’, ‘প্যাট গ্যারেট অ্যান্ড বিলি দ্য কিড’ এবং শেষ কাজ ‘ব্রিং মি দ্য হেড অব আলফ্রেডো গার্সিয়া’। জন্মশতবর্ষে সেই স্যাম পেকিনপাকে নতুন করে খুঁজে দেখার সুযোগ মিলবে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে।
পেকিনপার ‘দ্য ওয়াইল্ড বাঞ্চ’ রক্তসিক্ত মহাকাব্য! এটাই তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত সিনেমা। এমন বিষণ্ণ এক সিনেমা হলিউডে এর আগে তেমন একটাও বানানো হয়নি। গোটা সিনেমা খুব হিংসাত্মক আর অন্ধকারে আচ্ছন্ন। যেখানে দেখানো হয়েছে, এমন কিছু বয়স্ক-রুক্ষ মানুষের ডাকাতির গল্প, যারা একটা জগতে নিজেদের জায়গা খুঁজে পেতে লড়াই করে। যে জগতে তারা আর প্রাসঙ্গিক নয়। যারা পেকিনপার ‘দ্য ওয়াইল্ড বাঞ্চ’ নতুনভাবে দেখতে চান, করম্যাক ম্যাকার্থির ‘ব্লাড মেরিডিয়ান’ পড়ুন, তারপর আবার সিনেমাটা দেখুন। মেরিডিয়ান-এর ঘটনা ‘দ্য ওয়াইল্ড বাঞ্চ’-এর প্রায় ৬০ বছর আগের, যখন কাউবয় যুগ পুরোদমে চলছিল। যেখানে পেকিনপা সেই যুগের শেষের চিত্র তুলে ধরেছেন, কিন্তু রাজনীতি আর ভূগোল মূলত একই সুতোয় বাঁধা। সেই আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত। যে সীমান্ত এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চক্ষুশূল! ১৯৪১ সালে সিনেমা প্রেমীদের কাছে ‘সিটিজেন কেইন’ যেমন ছিল, ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে ‘দ্য ওয়াইল্ড বাঞ্চ’ তেমনই ছিল। এই সিনেমা ছিল হলিউডের বিপ্লব।
পেকিনপার চরিত্রগুলি অ্যান্টি-হিরো, বিষণ্ণ নিঃসঙ্গ মানুষ এবং নিরাশাগ্রস্ত রোমান্টিক। যাদের কাজ আমেরিকান আইডেন্টিটির প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে পেকিনপার সিনেমা দেখলে বোঝা যায়, ওয়েস্টার্নের মিথোলজি এক অন্তহীন হিংসার ইতিবৃত্ত— সেখানে জাস্টিসের কোনও জায়গাই নেই। তবুও তিনি ঝুঁকি নিতে বা সীমানা লঙ্ঘন করতে ভয় পেতেন না, যার ফলে দর্শক এবং সমালোচকদের কাছ থেকে কম বিতর্কিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বহু ক্ষেত্রেই তাঁর সিনেমাগুলি আগলে রেখেছে বব ডিলানের সুর।