মইদুল ইসলাম, আরামবাগ: পাঁড়ের ঘাট শ্মশান কালী মা। দূরদূরান্ত পর্যন্ত মায়ের মানত পূরণের সব গপ্পো ছড়ানো আছে। আরামবাগ শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁড়েরঘাট শ্মাশান কালীমা এতই জাগ্রত যে মানত পূরণের জন্য আরামবাগ বাদেও আশপাশের গ্রামের বহু মানুষমায়ের মন্দিরে চলে আসেন। কথিত আছে, সবার মনস্কাম পূরণ করেন পাঁড়েরঘাট শ্মশান কালী মা। এই মায়ের পুজো ঘিরে সবার মধ্যেই একটা আলাদা আবেগ কাজ করে। স্থানীয়দের দাবি, আজ থেকে প্রায় ১৩১ বছর বা তারও আগে আরামবাগ শহর ছিল প্রত্যন্ত গ্রাম। তখন আরামবাগের মধ্যে এটিই একমাত্র বড়ো শশ্মান ছিল। সেই সময় করুনা হাঁড়ি নামে এক ভিক্ষুক হাতে ত্রিশুল এবং মাথায় বিশাল জটা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। একদিন তিনি মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। তাঁকে মা বলেছিলেন, আমায় এই শশ্মানে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করলে সবার মনস্কামনা পূরণ হবে।এরপর তিনি এই মন্দিরে মা কালীর মূর্তি গড়ে পুজো শুরু করেন। প্রথমে একটি আট চালায় এই পুজো হত। বর্তমানে এই শশ্মানের কমিটি তৈরি করে মন্দির বানানো হয়েছে। বর্তমান প্রধান পুরোহিত তুষার চক্রবর্তী জানান, এখানে মা দক্ষিণাকালী রূপে পুজিতা হন। ব্যাঙ্কের লকার থেকে সোনার জিভ, সোনার চোখ, সতিহার, নথ, টিকলি, নপুর বের করে মাকে সাজানো হয়। পুজোর দিন বিকাল থেকেই শহরের হাজারের বেশি মহিলা পুজোর ডালি নিয়ে এই মন্দিরে লাইন দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি দেন। স্থানীয় দ্বারকেশ্বর নদ থেকে ঘট তুলে অমাবস্যা থাকাকালীন মায়ের পুজো শুরু হয়। সংকল্প হওয়ার পর মায়ের প্রসাদ স্বরূপ প্রায় ৪ হাজার মানুষকে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানো হয়। মহানিশিতে বিশেষ করে মায়ের কাছে ষোলমাছ পোড়া নিবেদন করা হয়। পড়ে ছাগ বলি, আঁখ বলি, ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হয়।
জনশ্রুতি, এই কালী ভীষন জাগ্রত। মানত করলে সবারই মনস্কামনা পূরণ করেন মা। তাই বহু পুরুষ ও মহিলা স্থানীয় দ্বারকেশ্বর নদে স্নান সেরে কেউ দণ্ডি কাটতে কাটতে মন্দিরে গিয়ে মায়ের পুজো দেন। আবার কেউ কেউ ধূনচি পোড়ান। আবার কেউ মায়ের উদ্দেশে হাত কেটে রক্তও বের করেন। তাঁদের বিশ্বাস, মায়ের কাছে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রার্থনা করলে মা তাঁদের মনস্কাম পূরণ করেন। এখানে পুজো হয় একদিনের। কিন্তু প্রতিমার বিসর্জন হয় একবছর বাদে। অর্থাৎ প্রতিবছর দুর্গা ঠাকুরের বিসর্জনের পর নিয়ম মেনে এই কালী মায়ের বিসর্জন দেওয়া হয়। চলে নিত্যপুজো। প্রতিদিন বিকালে মায়ের ভজন পাঠ এবং কথাঅমৃত পাঠ হয়। পাঁড়েরঘাট মহাশ্মশান সমিতির সদস্যরা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও আমরা মায়ের পুজোর আয়োজন করেছি। পুজোর সময় গোটা মন্দির চত্বর আলো দিয়ে সাজানো হবে। বাদ্যযন্ত্র বাজবে।



