Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেতুগ্রামের পাঁচুন্দিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অফিসে সাজানো বেডরুম!

কেতুগ্রামের পাঁচুন্দিতে প্রাক্তন বিধায়কের অফিসে বিলাসবহুল বেডরুম আবিষ্কার। স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য। বিস্তারিত পড়ুন।

কেতুগ্রামের পাঁচুন্দিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অফিসে সাজানো বেডরুম!
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের পাঁচুন্দিতে তৃণমূলের পার্টি অফিসের দোতলায় বিলাসবহুল বেডরুম হদিশ! দামি খাট, বিছানা থেকে এসি কী নেই! রাতে সেখানে কাদের আনাগোনা ছিল তা নিয়ে চর্চায় মেতেছেন বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, ওই পার্টি অফিসে নিশিযাপন করতেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ। 

Advertisement

এলাকার বাসিন্দারা ও বিজেপি কর্মীরা পাঁচুন্দি পার্টি অফিসে ঝা চকচকে শোয়ার ঘর আবিষ্কার করে চমকে ওঠেন। দোতলার ওই গোপন কেতাদুরস্ত শোয়ার ঘর কে থাকত তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। অন্য একটি ঘরে বেশ কয়েকটি খাট, বিছানা রাখা ছিল। তাছাড়া পার্টি অফিসে থরে থরে সাজানো ছিল ত্রিপল সহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী। সেগুলি কেতুগ্রাম-২ ব্লক প্রশাসন উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এক জায়গায় প্রচুর কাপড় রাখা ছিল। যেগুলি সম্ভবত গরিব মানুষদের মধ্যে বিলি করার জন্য দেওয়া হয়েছিল প্রশাসন থেকে। অভিযোগ, সেগুলি বিলি না করে পার্টি অফিসের ঘরে মজুত করে রাখা ছিল। 
কেতুগ্রাম বিধানসভায় তিনবার তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছিলেন নানুরের বাসিন্দা শেখ শাহনেওয়াজ। যদিও এবার তিনি বিজেপির কাছে পরাজিত হন। ২০১৬ সাল নাগাদ পাঁচুন্দি এলাকায় তিনতলা বাড়ি করেন শেখ শাহনেওয়াজ। নানুর থানার পাপুড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ শাহনেওয়াজ বর্তমানে বোলপুরে থাকেন। প্রাক্তন বিধায়ক কেতুগ্রাম-১ ব্লকের কান্দরা পার্টি অফিসে বসতেন। দুপুরের পর কেতুগ্রাম-২ ব্লকের পাঁচুন্দিতে চলে আসতেন। সেখানে একতলায় পার্টির কাজকর্ম করতেন আর দোতলায় বিশ্রাম নিতেন। মাঝেমধ্যে সেখানে রাত কাটাতেন বলেও শোনা যায়। তবে ভোটে হারের পর থেকে কেতুগ্রামের মাটিতে আর পা রাখেননি শাহনেওয়াজ। অভিযোগ, ভোটের পর দলের কর্মীদের খোঁজখবর নিতেন না তিনি। কারও ফোনও ধরতেন না। ইতিমধ্যেই তাঁর ভাই কাজল শেখ ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এ নাম লিখিয়েছেন। 
কোশিগ্রাম অঞ্চলের বিজেপির বুথ সভাপতি কালীরাম প্রধান, দিব্যেন্দু কর্মকার বলছেন, এলাকার গরিব মানুষরা একটা ত্রিপল চেয়ে পেত না। জনপ্রতিনিধি হয়ে কেতুগ্রাম থেকে শুধু প্রাক্তন বিধায়ক শুধু লুট করেছেন। তাঁর পার্টি অফিসের ভিতরে খাট, বিছানা, এসি সব রয়েছে। সেখানে রাতের অন্ধকারে অনেকেরই যাতায়াত ছিল বলে শুনেছি। আমরা চাই পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসের ভিতরে খাট, বিছানা থেকে নানা আপত্তিকর জিনিসপত্র মিলেছে। সেই তালিকায় যুক্ত হল কেতুগ্রামও। এ নিয়ে জানতে শেখ শাহনেওয়াজের তিনটি ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর তিনটি ফোনই বন্ধ। এলাকার তৃণমূল কর্মীদের একাংশও শেখ শাহনেওয়াজের আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ। প্রত্যেকেই বলছেন, ভোটের পর কর্মীদের পাশে থাকা নেতার কর্তব্য। কিন্তু শাহনেওয়াজ তা করেননি। ফোন করলেও তিনি ধরতেন না।- নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ