শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: পানাজিওটিস ডিম্পেরিস যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ছাড়ার মিনিট দশেক পর পৌঁছালেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। দুই কোচ মুখোমুখি হননি। তাই সৌজন্য সাক্ষাতের প্রশ্নই নেই। তবে রবিবার ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ডাগ-আউটের যুদ্ধে একে অন্যকে মেপে নিতে তৈরি দু’জনেই। মরশুমের প্রথম বড়ো ম্যাচে হাবাসকে টেক্কা দিয়েছেন গ্রিক কোচ। খেতাবি লড়াইয়ে আনোয়ারদের স্প্যানিশ বস কি প্রতিশোধ নিতে পারবেন? অভিজ্ঞ দুই কোচের মগজাস্ত্রের লড়াইয়ের উপর ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভরশীল।
শিলংয়ে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে বশ মানিয়ে শুক্রবার রাতে শহরে ফিরেছে পানোস ব্রিগেড। রিকভারির সময় কম। সূচি নিয়ে মোহন বাগান কোচ বেশ ক্ষুব্ধ। বললেন, ‘শিলংয়ে মনে হচ্ছিল, ওয়াটারপোলো খেলা চলছে। টানা ম্যাচের ধকলে ফুটবলাররা ক্লান্ত। বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু সেই সময় নেই। রেফারিং নিয়েও সন্তুষ্ট নই। পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দল।’ রীতিমতো অভিযোগ উগরে দিলেন সবুজ-মেরুন সারথি। একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘ফাইনাল অবশ্য জিততেই হবে। অন্য কিছু ভাবতে রাজি নই।’ বোঝাই যাচ্ছে, ফোকাস হারাতে নারাজ দীর্ঘদেহী গ্রিক হেডমাস্টার। পাশাপাশি গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত পানোস। প্রতি ম্যাচেই মোহন বাগান গোলরক্ষক যেন ছাপিয়ে যাচ্ছেন নিজেকে। পানোস বললেন, ‘আমার মতে বিশালই দেশের সেরা গোলরক্ষক।’ কোচের পাশে জেলকোভিচও আত্মবিশ্বাসী। গত মরশুমে পাঞ্জাব এফসি’তে রামিরেজের সতীর্থ ছিলেন তিনি। শিবির বদলে ড্যানি এবার লাল-হলুদে। আর জেলকোভিচ সবুজ-মেরুনে। বসনিয়ান মিডিওর মন্তব্য, ‘একই দলে খেলেছি। একে অন্যের খেলার ধরন জানি। লড়াই হবে মাঠে।’
মেগা লড়াইয়ের আগে কিছুটা ব্যাকফুটে ইস্ট বেঙ্গল। বিদেশি স্ট্রাইকার বা ডিফেন্ডার নেই। তাই অনেকেরই ধারণা, এই দলে সবচেয়ে বড় তারকা কোচ হাবাসই। স্প্যানিশ হেডমাস্টার বললেন, ‘পরিস্থিতি কঠিন। কিন্তু ম্যাচের আগে কোনও অজুহাত দিতে চাই না। ফুটবলারদের স্পষ্টভাবে তা বলে দিয়েছি।’ মোহন বাগানের সেরা অস্ত্র কে? অভিজ্ঞ কোচের ব্যাখ্যা, ‘আলাদা করে কাউকে নিয়ে ভাবতে নারাজ। গোটা দলকে রোখার পরিকল্পনা করতে হবে।’