Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪০ লিটারের পিতলের ঘটে পুজো হয় মঙ্গলকোটের কোঙার বাড়িতে

পিতলের বড় ঘটে ৪০লিটার জল ধরে। আর তাতেই পূজিতা হন দেবী দুর্গা। মঙ্গলকোটের সাঁওতা গ্রামে কোঙার জমিদারবাড়ির এই দুর্গাপুজো দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ ভিড় করেন।

৪০ লিটারের পিতলের ঘটে পুজো হয় মঙ্গলকোটের কোঙার বাড়িতে
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পিতলের বড় ঘটে ৪০লিটার জল ধরে। আর তাতেই পূজিতা হন দেবী দুর্গা। মঙ্গলকোটের সাঁওতা গ্রামে কোঙার জমিদারবাড়ির এই দুর্গাপুজো দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ ভিড় করেন। পুজোর আগে ঠাকুরদালান রং করা শুরু হয়ে যায়। নানা জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা পুজোর চারদিন একসঙ্গে মিলিত হন। একসঙ্গে হইচই, খাওয়াদাওয়া চলে।

Advertisement

৩০০বছরেরও বেশি আগে সাঁওতার কোঙারবাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। গ্রামেরই এক ব্রাহ্মণ প্রথমে পুজো শুরু করেছিলেন। কয়েকবছর ধরে তিনি মহা ধুমধামের সঙ্গে পুজো চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তিনি আর পুজো করতে পারবেন না বলে গ্রামবাসীদের জানিয়ে যান। গ্রামে একটিমাত্র পুজো, তাও বন্ধ হয়ে যাবে জেনে স্থানীয়রা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তখন গ্রামের জমিদার কাঙালকৃষ্ণ কোঙার এই পুজোর দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে এখনও জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে।  এখানে দেবী দুর্গা তাঁর দুই সখী জয়া ও বিজয়াকে নিয়ে আসেন। কোঙারবাড়ির সদস্য সিদ্ধার্থরাজ কোঙার বলেন, আমাদের বাড়ির পুজোর মূল আকর্ষণ পুরনো পিতলের বড় ঘট। ৪০লিটার ওই ঘটে মায়ের আরাধনা করা হয়। পাশের পুকুরঘাট থেকে ওই ঘট মাথায় করে নিয়ে আসা হয়। এটাই বংশপরম্পরায় চলে আসছে। নবমীকে সারা গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে বসিয়ে পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানো হয়।
পশ্চিম মঙ্গলকোটের সালন্দার রায়বাড়িতেও দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চলছে। বহুকাল আগে সালন্দার জমিদার মোহন রায় কালীপূজা করতেন। তারপর একদিন রাতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি দুর্গাপুজো শুরু করেন। আগে বর্ধমান রাজপরিবার থেকে দুর্গাপুজোর জন্য সালন্দার জমিদারের কাছে ৬০০টাকা অনুদান আসত।
মঙ্গলকোটের জয়পুরের রায়পরিবারে আবার পটের আঁকা দুর্গা পূজিতা হন। বাংলায় পটশিল্পের জৌলুস অনেক আগেই হারিয়েছে। এখন গ্রামবাংলায় আর পটশিল্পীরা রামায়ণ, মহাভারত বা বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনী আঁকা পট বিক্রি করতে আসেন না। তবে একসময় যে পটচিত্রের আলাদা গুরুত্ব ছিল-জয়পুরের এই পুজোই তার প্রমাণ।
জয়পুরের বাসিন্দা গিরিশ রায় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন যে, দেবী দুর্গার প্রতিমা যেন কোনওদিন বিসর্জন না দেওয়া হয়। সেজন্যই গিরিশবাবু পটে আঁকা দুর্গার পুজো শুরু করেছিলেন। দশমীতে দুর্গার পট দোলায় চাপিয়ে সারা গ্রাম ঘোরানোর পর পুকুরঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পটে সামান্য জল ছিটিয়ে আবার মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। এখন পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রায়পরিবার।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ