৩০০ ফুটের র‍্যাম্প! হাঁটতে হাঁটতেই  মণ্ডপে কারুকাজ দেখবেন দর্শনার্থীরা
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: আদি শক্তির উৎস আলো। আলোর ভিতর থেকেই প্রকৃতিরূপে দেবী দুর্গাকে আহ্বান। মণ্ডপে প্রবেশ থেকে মাতৃপ্রতিমা দর্শন। আলো-আবছা অন্ধকারে মণ্ডপের ভিতর তৈরি করা হয়েছে ৩০০ ফুটের র‌্যাম্প! যার উপর হাঁটতে হাঁটতে থিমের কারুকাজ দেখবেন দর্শনার্থীরা। ৫০ বছরে দর্শনার্থীদের জন্য এমনই সুযোগ করে দিচ্ছে সল্টলেকের ‘এ ই ব্লক সমাজকল্যাণ সংঘ (পার্ট-২)’। রাস্তার পাশে প্যান্ডেল করে পুজো নয়। এবার গোটা মাঠজুড়ে তৈরি হচ্ছে থিমের বিশাল মণ্ডপ। উদ্যোক্তাদের কথায়, এবার পরতে পরতে থাকবে চমক।

Advertisement

এ ই ব্লক সমাজকল্যাণ সংঘের (পার্ট-২) এবার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। তাই এবার আয়োজনও বিরাট ধুমধাম। এখন এই ব্লকে ঢুকলেই তা টের পাওয়া যায়। অসংখ্য কারিগর দিনরাত কাজ করছেন। শিল্পীরা দাঁড়িয়ে থেকে করছেন তদারকি। উদ্যোক্তারাও ঘোরাঘুরি করছেন। যাতে প্রস্তুতির কোনো খামতি না থাকে। এই পুজোর এবারের থিম ‘আলো’। থিম শিল্পী শিবাজি পাল এবং বাবলু সিংহের হাতের জাদুতে সেজে উঠছে মণ্ডপ। প্রতিমা তৈরি করছেন সৈকত বসু। মণ্ডপে ঢুকলেই শোনা যাবে শুভদীপ গুহের নির্দেশনায় তৈরি এক আবহ মিউজিক।
শিল্পী শিবাজি পাল বলেন, গত তিনমাস ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছের শুকনো ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ডালগুলি বিভিন্ন আকৃতির। তা দিয়েই মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। আমরা একটা জগৎ তৈরি করতে চেয়েছি। প্রকৃতির এক অনন্য জগৎ। একেবারে শেষ প্রান্তে থাকবে মাতৃ প্রতিমা। দেবীর আরাধনার সঙ্গে সকলে যাতে প্রকৃতির আরাধনাও করেন, সেই আহ্বান করা হয়েছে। কারণ, প্রকৃতিও আমাদের কাছে দেবী। তারও পুজো করা প্রয়োজন। ব্লকের সম্পাদক তাপসকান্তি সেনগুপ্ত বলেন, এবার আমাদের ৫০ বছরের পুজো। তাই একটু জমকালো আয়োজন করা হচ্ছে। এটুকু বলতে পারি, মণ্ডপে যাঁরা আসবেন, তাঁরা মুগ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরবেন।
তিনি বলেন, ব্লকের আবাসিকদের জন্য বিশেষ পাশ থাকবে। সেই সঙ্গে তাঁদের প্রবেশ ও প্রস্থান পৃথক করা হয়েছে। তাঁরা সরাসরি প্রতিমার কাছে গিয়ে অঞ্জলি দিতে পারবেন। সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী— এই তিনদিন খাওয়া-দাওয়া তো আছেই। এই দিনগুলিতে নিরামিষ খাবার থাকবে। তবে, এবার একাদশীর দিন বাড়তি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। শেষদিন আমিষের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র