Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোঘাটে বরুণ খুনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়, মহারাষ্ট্রের থানে থেকে ধৃত বছর ছাব্বিশের যুবক

গোঘাটে বরুণ খুনে নয়া মোড়। পুলিসের জালে ধরা পড়ল আরও এক অভিযুক্ত। মুম্বইয়ের থানে স্টেশন থেকে বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোঘাট থানার পুলিস।

গোঘাটে বরুণ খুনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়, মহারাষ্ট্রের থানে থেকে ধৃত বছর ছাব্বিশের যুবক
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গোঘাটে বরুণ খুনে নয়া মোড়। পুলিসের জালে ধরা পড়ল আরও এক অভিযুক্ত। মুম্বইয়ের থানে স্টেশন থেকে বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোঘাট থানার পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সন্তোষ পণ্ডিত। তার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার পরশবনি এলাকায়। বরুণ খুনে মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী গ্রামের বাসিন্দা তন্ময় দাসের পরিচিত ছিল সে। বরুণকেও চিনত। তাকে মামা বলে ডাকত। খুনের ঘটনার দিন বরুণ ও তন্ময়ের সঙ্গে সন্তোষ ছিল বলে জেরায় সে স্বীকার করেছে বলে পুলিস জানিয়েছে। ধৃতকে মহারাষ্ট্র থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হয় গোঘাটে। মঙ্গলবার তাকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। 
মৃতের পরিবারের সদস্য তাপস দাস বলেন, বরুণের মোবাইল ও জুতো এখনও পাওয়া যায়নি। আমরাও অনেক খুঁজেছি। অন্যতম অভিযুক্ত সন্তোষকে নিয়ে ঘটনার আরেকবার পুনর্নির্মাণ করুক পুলিস। আমরা চাই এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি হোক।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ জুলাই গোঘাটের রঘুবাটি পঞ্চায়েতের রাজগ্রামের বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি বরুণ দাসের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় গ্রামেরই পুকুরের পাড়ে। দেহ উদ্ধারের দু’ দিন আগে থেকে বরুণ নিখোঁজ ছিলেন। তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে বরুণের স্ত্রী মিতা ও প্রতিবেশী গ্রামের তন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। মিতার সঙ্গে তন্ময়ের বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক ছিল। পথের কাঁটা সরাতে বরুণকে খুনের চক্রান্ত করে তারই স্ত্রী ও বিবাহিত প্রেমিক বলে অভিযোগ। পুলিস তদন্তে জানতে পারে, খুনের সময়ে তন্ময় ফোন করে ঘটনার কথা জানায় মিতাকে। এই ঘটনায় সহযোগী ছিল সন্তোষ। যদিও ঘটনার পরদিনই সে আরামবাগ থেকে ট্রেন ধরে হাওড়া চলে যায়। তারপর গুজরাতে পাড়ি জমায়। সেখানে সে কাজ করত।  পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ ঝাড়খণ্ডেরর বাসিন্দা হলেও মূল অভিযুক্ত তন্ময়ের সঙ্গে তার কাজের সূত্রে যোগাযোগ ছিল। মাঝে মাঝে সে গোঘাটে আসত। অন্য সময় কলকাতায় কাজ করত। খুনের ঘটনার পর সে গুজরাতে চলে যায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোঘাট থানার পুলিসের একটি দল রওনা দেয়। অবশেষে মহারাষ্ট্রের থানে স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, সন্তোষ থানে থেকে মুম্বই আসার পরিকল্পনা করেছিল। সেখান থেকে কাজের সূত্রে তার তেলেঙ্গানা যাওয়ার কথাও ছিল। তার আগেই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করতে সফল হয়েছে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সন্তোষ পুলিসকে জানিয়েছে, তন্ময় তাকে ভয় দেখায়। তাই সে খুনের ঘটনায় মুখ খোলেনি। পুলিস তার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। 

Advertisement

 ধৃত যুবক।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ