শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: তারাপীঠের তারা মায়ের আদল। উচ্চতা ১৪ ফুট। সেই প্রতিমার সাজে রুপোর উজ্জ্বল প্রলেপ। কালীপুজোয় এমনই অভিনব ভাবনা নিয়ে হাজির বারাসতের নবপল্লি পশ্চিম ইছাপুরের পুজো। তাদের থিম কাল্পনিক স্বর্ণমন্দির। নাম ‘স্বর্ণকমল’। থিমের মণ্ডপের জাঁকজমককে ছাপিয়ে দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে প্রতিমার মূর্তি। কারণ এবার সাধারণ উপকরণ দিয়ে প্রতিমা গড়ে তার উপর রুপোর সাজ নয়। প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৩০ কেজি রুপো। মূর্তিটি সংরক্ষণ করা হবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
বীরভূমের তারাপীঠের তারা মায়ের মূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে ভক্তদের গভীর আবেগ ও বিশ্বাস। সেই রূপই নবপল্লির মণ্ডপে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারের পরিকল্পনায় প্রথমে তৈরি হচ্ছে লোহার কাঠামো। তার উপরে রুপোর আবরণ বসিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী মূর্তি। প্রায় ৩০ কেজি রুপোর ব্যবহারে দেবীর মূর্তিতে আলাদা জৌলুস ঠিকরে বেরবে, আশাবাদী পুজো কমিটি। মূর্তির উচ্চতা ১৪ ফুট হলেও তার মধ্যে মুকুটের উচ্চতা প্রায় চার ফুট। দেবীর মুখাবয়ব, মূর্তির গঠন এবং অলঙ্করণের মধ্যে দিয়ে তারাপীঠের তারা মায়ের পরিচিত রূপ ফুটিয়ে তোলাই শিল্পীর লক্ষ্য। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার বলেন, তারাপীঠের তারা মায়ের আদল অনুসরণ করে এই প্রতিমা হয়েছে। এর বিশেষত্ব হল, গায়ে রুপোর আবরণ। এত বড়ো প্রতিমায় দেবীর আদল ও রুপোর কারুকাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দর্শনার্থীরা যাতে মায়ের রূপের পাশাপাশি নির্মাণের অভিনবত্বও অনুভব করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
অন্যদিকে প্রতিমা নির্মাণের সঙ্গে পুজোর আচার-অনুষ্ঠানেও তারাপীঠের যোগসূত্র রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সেই উদ্দেশে কয়েকদিন আগেই তারাপীঠে গিয়ে অনুমতি নিয়ে এসেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারাপীঠের পুরোহিতদের দিয়েই পুজোর আয়োজন করা হবে। ফলে প্রতিমার আদল থেকে পুজোর রীতিনীতি, দু’ক্ষেত্রেই তারাপীঠের আবহ তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমাকে সামনে রেখে সাজছে গোটা মণ্ডপ। স্বর্ণকমল ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে কাল্পনিক স্বর্ণমন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপসজ্জা। ভিনরাজ্যের বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করার পাশাপাশি কাজে লাগানো হচ্ছে প্লাইউড ও ফাইবার। মণ্ডপের সোনালি আবহের সঙ্গে রুপোর প্রতিমার বৈপরীত্যই দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পুজোর সদস্যরা। উদ্যোক্তা পীযূষ সাহা বলেন, এবার আমাদের মূল চমক মায়ের মূর্তি। দর্শনার্থীরা যাতে কাছ থেকে রুপোর কাজ দেখতে পারেন, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



