Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিন মাসেই দেউচা পাচামিতে ৯৮৪টি গাছ সফলভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে

তিন মাসেই দেউচা পাচামিতে ৯৮৪টি  গাছ সফলভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাজ্যের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। কথা ছিল একটি গাছেরও ক্ষতি হবে না। দেউচা পাচামির প্রকল্প এলাকায় থাকা মহুয়া সহ প্রতিটি গাছই পুনর্বাসন পাবে। সেই মোতাবেক ১০০ শতাংশ সফলতার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গাছ স্থানান্তরণের কাজ শুরু হয়েছিল। তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহুয়া সহ মোট ৯৮৪টি গাছ স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন গাছগুলির দেখভাল করার পালা। আগামী প্রায় ছ’মাস একটানা জেলা প্রশাসনের তরফে প্রতিস্থাপিত গাছগুলির দেখভাল করা হবে। নিয়মিত জল দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে ওষুধ দেওয়ার কাজও চলবে। ইতিমধ্যে একাধিক মহুয়া গাছে নতুন করে ফুল ও পাতা জন্মেছে। এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক বাবুলাল মাহাতো বলেন, বিশ্বে এই প্রথম মহুয়া গাছের প্রতিস্থাপন করা হল। সফলভাবেই মহুয়া সহ অন্যান্য গাছগুলিকে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি গাছই যাতে বেঁচে থাকে] তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে একাধিক গাছে নতুন করে ফুল ও পাতা জন্মেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকেই এশিয়ার সর্ববৃহৎ কোল ব্লক দেউচা পাচামিতে জোরকদমে খনন কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রকল্প এলাকায় থাকা গাছগুলি সরানোর কাজও শুরু হয়। বরাতপ্রাপ্ত খড়্গপুর আ‌ইআইটি অনুমোদিত একটি সংস্থার হাত ধরে কাজ চলে। সেইসঙ্গে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক তথা আন্তর্জাতিক হর্টিকালচার সোসাইটির চেয়ারম্যান এস কে মিত্র ও গাছ স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া বিশেষজ্ঞ রামচন্দ্র আপ্পারির পরামর্শও নেওয়া হয়েছিল। গাছ স্থানান্তরণের ক্ষেত্রে প্রথমেই রুট বল তৈরি করে পরিচর্যা করা হয়। পরবর্তীতে একে একে গাছগুলিকে প্রকল্প এলাকার অদূরেই একটি মাঠে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে শুধু ওই মাঠেই নয়। প্রকল্প সংলগ্ন এলাকার পৃথক চারটি জাহেরথানেও একাধিক গাছ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চারটি জাহেরথানে মোট ২৩টি গাছ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত মোট মহুয়া গাছের সংখ্যা ৭৫৫টি। এছাড়াও ওই এলাকায় থাকা ৮৭টি মুর্গা গাছ, ১৩৯টি অর্জুন গাছ, দু’টি শিরীষ গাছ ও একটি বেল গাছ নতুন করে পুনর্বাসন পেয়েছে। প্রতিস্থাপন শেষে এখন গাছগুলির দেখভাল চলছে। নিয়ম করে প্রতিটি গাছেই প্রতিদিন জল দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে কমবেশি প্রতিটি গাছেই ওষুধ দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে।  

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ