Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিনগরে ফের ৯৫ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাক

মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী রানিনগর বিধানসভায় নতুন করে ৯৫ হাজার ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন।

রানিনগরে ফের ৯৫ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাক
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী রানিনগর বিধানসভায় নতুন করে ৯৫ হাজার ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নোটিস পেয়ে নির্দেশমতো শুনানিতে হাজির হতে সবথেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে নদীর চরের বাসিন্দাদের। সীমান্তলাগোয়া এলাকা থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরের শুনানি কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তাঁরা সকালেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন। চর থেকে গিয়ে হিয়ারিং সেরে ঘরে ফিরতে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন। অসুস্থদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে সব থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। তবে, শাসক দল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক ও তৃণমূলের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে ভোটারদের টোটোয় করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রের পাশে শিবির করে নথিপত্র গুছিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূলের বিএলএরা।

Advertisement

লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে শুনানিতে ডাকার পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছেন তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেন। কারণ খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে সবথেকে কম অবৈধ ভোটারের খোঁজ মিলেছিল রানিনগর বিধানসভায়।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় এই বিধানসভায় মোট ভোটার ছিল ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮০৭জন। ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩০৪জনকে ইনিউমারেশন ফর্ম বিল করা হয়। ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪৫৩জনের কাছ থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে বিএলওরা অ্যাপে আপলোড করেন। তখন দেখা যায়, ২৭৮৫জন মৃত ভোটার রয়েছেন। এখানে মাত্র ৫ হাজার ২৫টি ইনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়েনি। তার মধ্যে বেশকিছু স্থানান্তরিত ভোটার ছিল। সবথেকে কম সংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় বিজেপি রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যায়। কারণ, এই সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রচুর ভুয়ো ভোটার আছে বলে বিজেপি মনে করেছিল। কমিশনের প্রতিনিধিরা মুর্শিদাবাদ জেলায় এলে সীমান্তবর্তী এলাকার এই ভোটারদের নিয়ে বিজেপি সন্দেহ প্রকাশ করে একটি আবেদন জমা করে।

বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, রানিনগর, জলঙ্গি, সাগরপাড়া এই সমস্ত এলাকাতেই বহু ভুয়ো ভোটার আছে। ২০০২ সালের তালিকায় তাদের নাম নেই। সীমান্ত পেরিয়ে এসে এপারে বসবাস শুরু করেছে। অথচ তারা দিনের পর দিন ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। এরাই তৃণমূলের ভোট ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা কমিশনকে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআরের মাধ্যমে প্রকৃত ভোটাররাই শুধুমাত্র ভোট দিতে পারবেন।

মানুষের ভোটাধিকার বাতিল করার জন্য বিজেপি যে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং কমিশনকে কাজে লাগাচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেন বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মানুষকে হয়রান করার চেষ্টা করছে। নোটবন্দির সময় তারা সাধারণ মানুষকে এটিএমের লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। আর এবার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য সাধারণ মানুষকে ভোটের আগে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এর থেকে হতাশাজনক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে! হুরশি চরের বাসিন্দাদের ৩০ কিলোমিটার দূরে শুনানি করতে আসতে হচ্ছে। মানুষের হয়রানি বাড়ছে। আমাদের কর্মীদের সমস্ত অঞ্চলে নামানো হয়েছে। টোটোয় করে অসুস্থদের শুনানি কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। আমরাই উদ্যোগ নিয়ে টোটো পাঠাচ্ছি। সমস্ত কাজ বাদ দিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের এসআইআরের কাজে নামিয়ে দিয়েছি।

সম্পর্কিত সংবাদ