Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা শহরে চারদিনের অভিযানে ফেলে দেওয়া হল ৯৫০ কেজি খাবার, বিভিন্ন মলের ফুড কোর্ট, চাইনিজ-বিরিয়ানির দোকানে হানা

খাদ্যে ভেজাল রোধ করতে কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে অভিযান শুরু হয়েছে

কলকাতা শহরে চারদিনের অভিযানে ফেলে দেওয়া হল ৯৫০ কেজি খাবার, বিভিন্ন মলের ফুড কোর্ট, চাইনিজ-বিরিয়ানির দোকানে হানা
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাদ্যে ভেজাল রোধ করতে কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। গত চার দিনে কলকাতার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ এবং খাবারের দোকানে হানা দিয়ে প্রায় ৯৫০ কেজি খাবার ফেলে দিয়েছেন ফুড সেফটি অফিসাররা। সব মিলিয়ে এই চার দিনে (১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর) ১৫৫টি দোকানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি হোটেল বা রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করার প্রস্তাব রেখেছেন কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট অফিসাররা। রবিবারও শহরের বিভিন্ন শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চলে। তালিকায় ছিল সাউথ সিটি, অ্যাক্রোপলিস মল, হাইল্যান্ড পার্কের মেট্রোপলিস মলের ফুডকোর্টও। নামী চাইনিজ ও বিরিয়ানির দোকানেও এদিন হানা দেন ফুড সেফটি অফিসাররা। ভেজালযুক্ত মশলাপাতি এবং অনেকদিন পড়ে থাকা মাংস ফেলে দেওয়া হয়েছে। খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করেছেন অফিসাররা। 

Advertisement

পুরসভার তথ্য বলছে, গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম চারদিনে ৯৪৩ কেজি তৈরি খাবার বা তা তৈরির কাঁচামাল ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মঙ্গলবারই ফেলা হয়েছে প্রায় ৫২০ কেজি খাবার। ট্যাংরা অঞ্চলের একটি নামকরা হোটেলে প্রায় ৫০০ কেজি মাংস ফ্রিজারে রাখা ছিল। প্যাকেটের গায়ে কোনো ডেট উল্লেখ ছিল না। সেই মাংসগুলি ফেলে দেওয়া হয়। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাভুক্ত ফুড সেফটি উইং এই অভিযানের দায়িত্বে রয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বছরভর এই ধরনের অভিযান চলে। প্রতি বছর পুজোর সময় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তবে এবার পুরসভার ফুড সেফটি আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসাররা অভিযানে থাকছেন। প্রথম চারদিনে ৩৭৪টি হোটেল, রেস্তরাঁ এবং খাবারের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। রান্না করা খাবার এবং খাবারের অন্যান্য উপাদান বা মশলাপাতি মিলিয়ে মোট ১০৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ‘অনস্পট’ চেকিংও চলছে। যার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ৭৫টি খাবারের দোকান বা রেস্তরাঁকে কিছু বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ৪৬টি জায়গায় সতর্কতামূলক নোটিস দেওয়া হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘যেখানে সিরিয়াস ইস্যু নেই, তবে কিছু বেনিয়ম চোখে পড়েছে, সেখানে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তাদের ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কথা বলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা ফের সেখানে অভিযানে যাব। সেই সঙ্গে ৩৩টি খাবারের দোকান বা রেস্তরাঁ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাদের লাইসেন্স সাসপেন্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই দোকানগুলিকে ২ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণমান, মশলাপতির মান বা রান্নাঘরের পরিকাঠামোয় যেসব গুরুতর গাফিলতি নজরে এসেছে, সেগুলি আগে শোধরাতে হবে। সবটা ঠিকঠাক করে ওঁরা আমাদের ছবি পাঠাবেন। আমরা সেখানে গিয়ে কথামতো কাজ হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখব। তারপর পুনরায় দোকান চালু করার অনুমতি দেওয়া হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ