নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সাত বছরে পূর্ব মেদিনীপুরে ৯৩০জন দাগী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সরকারি কোষাগার থেকে ২৩০কোটি টাকা মাইনে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের চাকরি বাতিল হয়েছে। ২০২৫সালে মার্চ মাসের পর থেকে সকলের মাইনে বন্ধ। ২০১৮সাল থেকে ২০২৫সালে মার্চ পর্যন্ত বাদ যাওয়া ৩২৯জন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার মাইনে বাবদ খরচ হয়েছে ১২৪কোটি টাকা। ১৫২জন গ্রুপ-সি কর্মীকে মাইনে দেওয়া হয়েছে ৩৪কোটি ৬২লক্ষ টাকা। এছাড়া, ৪৪৯জন গ্রুপ-ডি কর্মী মাইনে বাবদ পেয়েছেন আরও ৭২কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের প্রত্যেকের চাকরি বাতিল হয়েছে। এই মুহূর্তে ওই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের থেকে বেতনের টাকা ফেরতের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল থেকে চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের মাইনের টাকার হিসাব জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসে জমা পড়েছে। এরপরই প্রত্যেকের ঠিকানায় বেতনের টাকা চেয়ে চিঠি যাওয়ার কথা।
সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬সালের এসএসসি প্যানেলের দাগীদের চাকরি বাতিল করেছে। সেইসঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে মাইনে বাবদ দেওয়া টাকাও ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় চাকরি খারিজ হওয়া শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের থেকে মাইনে বাবদ টাকা ফেরানোর উদ্যোগ সেভাবে নেয়নি। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার এনিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার দু’দফায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে(মাধ্যমিক) চিঠি দিয়ে প্রত্যেক স্কুল থেকে অযোগ্য ও বাদ যাওয়া ওই শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের মোট মাইনের পরিমাণ, অ্যাপ্রুভাল কপি, ই-সার্ভিস বুকের কপি, ঠিকানা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন। সেইমতো প্রত্যেক স্কুলে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায়। বৃহস্পতিবার অধিকাংশ স্কুল থেকে এসংক্রান্ত রিপোর্ট চলে এসেছে। তাতেই বেতন বাবদ টাকার অঙ্ক সামনে এসেছে।
শহিদ মাতঙ্গিনীর বড়নান হাইস্কুলের দু’জন মাধ্যমিক শিক্ষকদের চাকরি খারিজের লিস্ট জমা পড়েছে। জানানো হয়েছে, ২০১৮সালে যোগ দেওয়ার সময় একজন শিক্ষকের মাসে গ্রস স্যালারি ছিল ৩০হাজার ৭৫১টাকা। ২০২৫সালে মার্চে শেষবার মাইনে তোলার সময় সেটা দাঁড়ায় ৪৬হাজার ৬২টাকা। মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাত বছরে ২৯লক্ষ ৬৫হাজার টাকা মাইনে বাবদ সরকার দিয়েছে।
তমলুক ব্লকের কেলোমাল সন্তোষিনী হাইস্কুলের একজন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই স্কুল থেকেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৮সালে জয়েন করার সময় মাসে গ্রস স্যালারি ছিল ১৪হাজার ৯৮০টাকা। ২০২৫সালে মার্চে শেষবার মাইনে দেওয়ার সময় সেটা ছিল ২৬হাজার ৭৮টাকা। একজন গ্রুপ-ডি কর্মীর সাত বছরে মোট ১৬লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে গিয়েছে। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের জামিট্যা আদর্শ হাইস্কুলে একাদশ-দ্বাদশ ক্যাটাগরির দুই শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই স্কুল থেকে জানানো হয়েছে, একাদশ-দ্বাদশ ক্যাটাগরিতে ওই শিক্ষকরা ২০১৮সালে যোগ দেওয়ার সময় মাসে ৩৫হাজার ৭৩০টাকা বেতন পেতেন। ২০২৫ সালে মার্চের শেষ বেতন নেওয়ার সময় সেটা ছিল ৬৪হাজার ৬৩৪টাকা।
জানা গিয়েছে, ১৫২জন গ্রুপ-সি কর্মীর জন্য মাইনে বাবদ মোট ৩৪কোটি ৬২লক্ষ টাকা কোষাগার থেকে দেওয়া হয়েছে। ৪৪৯জন গ্রুপ-ডি কর্মীকে সাত বছরে মাইনে বাবদ ৭২কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৩২৯জন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য মাইনে বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে বেরিয়েছে আরও ১২৪কোটি টাকা। এভাবে মোট ২৩০কোটি টাকা মাইনে বাবদ সরকারের বেরিয়েছে।



