সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: অবশেষে নিজেদের দেশে ফিরলেন ভারতে আটক বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা। শনিবার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে তাঁরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন। জানা গিয়েছে, প্রায় চার মাস আগে বাংলাদেশের চারটি ট্রলার আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়েছিল। তখন ভারতের উপকূলরক্ষী বাহিনী ওই ট্রলারগুলিতে থাকা ৯১ জন মৎস্যজীবীকে আটক করে। সেদিন থেকে মৎস্যজীবীরা ভারতে আটক ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এদিন তাঁরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আধিকারিক ও ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকসহ কোস্টাল থানার পুলিশ আধিকারিকরা ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের ট্রলারে তোলা হয়। এরপর তাঁদের আন্তর্জাতিক জল সীমানায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দুই দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হবে হস্তান্তর। শেখ আনোয়ার নামে বাংলাদেশের এক মৎস্যজীবী বলেন, ‘সেদিন ঘন কুয়াশা থাকার কারণে পথ ভুলে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়েছিলাম। প্রায় চার মাস এখানে আটক রয়েছি। তবে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। সবরকম পরিষেবা ভালো পেয়েছি। আইনি জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরব, এটা ভেবেই খুব আনন্দ লাগছে।’ সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘গত বছর মাছ ধরার মরশুমে ভারতেরও বেশ কয়েকটি ট্রলার সহ মৎস্যজীবীদের বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী আটক করেছিল। আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রথমের দিকে বেশ কয়েকটি ট্রলারসহ এদেশের মৎস্যজীবীরা ফিরে এসেছিলেন।’ প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভারতের আরও তিনটি ট্রলারসহ ৪৩ জন মৎস্যজীবী বাংলাদেশে আটক ছিলেন। তাঁরাও সবাই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফিরে এসেছেন। এবার বাংলাদেশের চারটি ট্রলারসহ ৯১ জন ভারতে আটক ছিলেন। তাঁরাও দেশে ফিরে গেলেন।



