নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। চলতি মাসেই রয়েছে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ। ফলে শারীরিক কষ্ট, অস্বস্তি তো আছেই। সেই সঙ্গে রয়েছে অসম্ভব মানসিক জোর। আর তাতে ভর করেই রবিবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দিলেন সোনারপুরের কল্পনা মণ্ডল। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে তাঁর মুখে তৃপ্তির হাসি। তবে ক্লান্তি ও ধকলের ছাপও ছিল স্পষ্ট। মৃদু গলায় জানালেন, পরীক্ষা ভালো হয়েছে। বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতার জন্য পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি। সেন্টার পড়েছিল হরিনাভি ডিভিএএস হাইস্কুলে। এই প্রথম তিনি শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসছেন। স্বামী সুরঞ্জন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রে আসেন তিনি। তাঁদের বাড়ি সোনারপুরেরই রাধাগোবিন্দপল্লি এলাকায়। কল্পনাদেবীর স্বামী বলেন, ‘পরীক্ষায় বসার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, খুব বেশি দূরে পরীক্ষাকেন্দ্র হলে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। কিন্তু বাড়ির একদম কাছেই সিট পড়েছে বলে ডাক্তারের অনুমতি নিয়েই পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছি ওকে।’ তবে রাস্তা খারাপ থাকায় এতটাই সাবধান ও সতর্ক হয়ে তাঁদের আসতে হয়েছে যে মাত্র ছ’কিমি আসতেই ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে তাঁর জন্য পৃথক কোনও ব্যবস্থা না থাকলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কল্পনাদেবী।



