


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হোয়াটসঅ্যাপ কল এলেই ফোন হ্যাক। আতঙ্কিত করার মতোই প্রতারণার নয়া ফন্দি বের করেছে সাইবার জালিয়াতরা। সঙ্গে ‘দোসর’ ডিজিটাল অ্যারেস্টের উৎপাত তো রয়েছেই। দেশজুড়ে অনলাইন অপরাধের জোড়া ফলার সামনে কোটি কোটি টাকা খোয়াচ্ছেন আম জনতা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই দুই ধরনের প্রতারণার নেপথ্যে রয়েছে ভাড়া নেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। সাইবার ক্রাইমের পরিভাষায় যাকে বলা হয়—মিউল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। চলতি বছরের প্রথম তিনমাসে দেশজুড়ে এমন ৮৩ হাজার মিউল হোয়াটসঅ্যাপের সন্ধান পেয়েছে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট। সমস্ত চিহ্নিত ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টগুলিকে ব্লক করল ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা আই ফোর সি।
দেশজুড়ে সাইবার বিশেষজ্ঞদের ঘুমে উড়িয়েছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট। এই ধরনের প্রতারণায় শুধুমাত্র কলকাতা থেকেই খোয়া গিয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভুয়ো গল্পে বিশ্বাস করে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, এসআইআর আবহে মাথা চাড়া দিয়েছিল ভুয়ো স্ক্যানার। ফর্মে থাকা কিউ-আর কোড ‘অকেজো’ বলে হোয়াটসঅ্যাপেই মেসেজ পাঠাচ্ছিল ‘নির্বাচন কমিশন’-এর ছদ্মবেশধারী প্রতারকরা। সেই নম্বর থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো কিউ-আর কোড পাঠিয়ে ফোন হ্যাকের ফাঁদ পাতে সাইবার দুষ্কৃতীরা। তাতেও অনেকেই টাকা খোয়ান। অন্যদিকে, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালের তথ্য বলছে, সম্প্রতি +২১, +৬১ ও +৬৭ কোড থেকে আসা হোয়াটসঅ্যাপ কলে মোবাইল ফোন হ্যাকের চেষ্টা করে হ্যাকাররা। গ্রাহক সেই কল না ধরলেও মোবাইল ফোনের কন্ট্রোল চলে যাচ্ছিল প্রতারকদের হাতে। হোয়াটসঅ্যাপ কল মারফতই ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে মোবাইল ফোন হ্যাকের চেষ্টা চালায় সাইবার দুষ্কৃতীরা।
সাইবার অপরাধের এই ধরনের অভিযোগের তদন্তে নামে আই ফোর সি। সাইবার ক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স শাখার তথ্য বলছে, মিউল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টই ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও জিরো ক্লিক অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো ‘বিপদ’। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ডিজিটাল স্ট্রাইক অভিযান শুরু করেছে দেশজুড়ে। তার লক্ষ্য সাইবার অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা। এই অভিযানে ৩,৯৬২টি স্কাইপ আইডি এবং ৮৩,৮৬৭টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টগুলি থেকে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। শুধু অনলাইন অ্যাকাউন্টই নয়, মোবাইল ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের মাধ্যমে একবছরে চিহ্নিত ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ভুয়ো সিম কার্ড এবং প্রতারণায় জড়িত ২ লক্ষ ৩৯ হাজার মোবাইল আইএমইআই নম্বর ব্লক করা হয়েছে। এছাড়া, অনলাইন প্রতারণা রুখতে ৮২৭টি ক্ষতিকারক মোবাইল অ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে ১.১১ লক্ষেরও বেশি সন্দেহজনক কনটেন্ট ব্লক করা হয়েছে, যা প্রতারিত করতে ব্যবহৃত হত।