সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: আবাস যোজনায় যেসব উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন তাঁদের দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। টাকা পাওয়ার পরেও পুরুলিয়া জেলার ৮০শতাংশ উপভোক্তা এখনো পর্যন্ত ভিত খোঁড়ার কাজ পর্যন্ত করেনি বলে অভিযোগ। ফলে তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রথম কিস্তি পাওয়া সত্ত্বেও কাজ শুরু না করা উপভোক্তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে। ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের তরফে জেলা প্রশাসনকে উপভোক্তাদের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রী জেলা বৈঠকে এসে জেলা প্রশাসনকে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই শোরগোল পড়েছে। রঘুনাথপুর মহকুমার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, টাকা পাওয়ার পরেও উপভোক্তারা কাজ করেননি। কাজ না করলে তো টাকা ফেরত দিতেই হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে তৃণমূল আমলে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা(গ্রামীণ) প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার দুঃস্থ পরিবারগুলির মাথার উপর ছাদের জন্য রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরু হয় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ। নির্বাচনের আগে সেই প্রকল্পে উপভোক্তাদের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পুরুলিয়া জেলায় ৫২ হাজার ৪৮০ জন উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৬০৩ জন কোনো কাজ করেননি। ফলে তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ না করলে সকলকে টাকা ফেরত দিতে হবে।
প্রশাসন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, জেলার সাঁতুড়ি ব্লকের ৪১৭৬জন উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩৬জন কাজ শুরু করেছেন। ওই ৩৬ জন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন। বাকিদের টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। নিতুড়িয়ার ২২৯৬ জনের মধ্যে ৫৭২ জন কাজ করেছেন। একইভাবে রঘুনাথপুর-১ ব্লকের ২৬৬৬ জনের মধ্যে ১২৩ জন, রঘুনাথপুর-২ ব্লকের ৩৩৯১জনের মধ্যে ৫০৯ জন, কাশীপুরের ৩০৩৩ জনের মধ্যে ১১৭জন কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া পাড়ায় ৫১৯৯ জনের মধ্যে ৫৪১ জন, পুঞ্চায় ২০৪২ জনের মধ্যে ৪৩৫ জন, হুড়ায় ৪২৩১ জনের মধ্যে ১৩১৩জন, ঝালদা-১ ব্লকের ৯৮৭ জনের ৩৬০ জন, ঝালদা-২ ব্লকের ৪২৬ জনের ২১৯ জন কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি ব্লকের ক্ষেত্রে একই চিত্র সামনে এসেছে।
উপভোক্তা রাজেশ মণ্ডল, মোহিত মাহাত বলেন, বালির অভাবে বাড়ি তৈরির কাজ করা যায়নি। অথচ এখন সরকারের তরফ থেকে টাকা ফেরত চাইবে বলে শুনেছি। অনেকে ঘর ভেঙে বিপাকে পড়েছে। মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, যারা কাজ শুরু করেননি, তাঁদের টাকা ফেরত দিতেই হবে। শুধু বালির অভাবের জন্য কাজ বন্ধ হতে পারে না। বালির যে সমস্যা হয়েছে, তা দ্রুত মিটে যাবে।