নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালির জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কথা রাখলেন বাংলার ‘অগ্নিকন্যা’। গত বছর ৩০ ডিসেম্বর এই প্রত্যন্ত জনপদে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালকে ৩০ থেকে ৬০ শয্যা করা হবে। সেই কথা মতো হাসপাতালের সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক সুকুমার মাহাতকে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন।
গত বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই সন্দেশখালি ছিল উত্তপ্ত। তৃণমূল নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মহিলারা। জমি দখল, ভেড়ি নষ্ট করা নিয়ে তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। অভিযোগ পাওয়ার পর জমি ফেরানো থেকে ভেড়ির সমস্যা দূর করতে সরকারিভাবে ক্যাম্প করে রাজ্য সরকার। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অভিযোগ জানালে সমস্যার সমাধানও হয়। এই ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী ফায়দা পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবির। এই জন্য সন্দেশখালি আন্দোলনের প্রতিবাদী মুখ বলে পরিচিত রেখা পাত্রকে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে বিজেপি। কিন্তু তা বুমেরাং হয়। লোকসভা ভোটের প্রচারে বসিরহাটের সভা থেকে সন্দেশখালির মানুষের কাছে প্রত্যয়ী মমতার ঘোষণা ছিল, ভোটে জিতেই আমি সন্দেশখালিতে যাব। সেই মতো গত বছর ৩০ ডিসেম্বর তিনি সন্দেশখালিতে আসেন এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় ছিল সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালকে ৩০ থেকে ৬০ শয্যার করার কথা। সেই মতো রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। অবশেষে এই হাসপাতালের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এনিয়ে বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখেন। তাই সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালের উন্নতির জন্য টাকা মঞ্জুর করেছেন। এখানে সিজার সহ একাধিক নতুন পরিষেবা মিলবে। তখন আর দূরে গিয়ে এলাকার মা, বোনদের সিজার করাতে হবে না। এনিয়ে বসিরহাট স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবিউল ইসলাম গায়েন বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা মেলে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এখানে সিজার, অপারেশন সহ সমস্ত জরুরি পরিষেবা যাতে ঠিকভাবে দেওয়ার যায়, তার পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।