প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বঙ্গভাষীদের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার-সন্ত্রাসে জেরবার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভিন প্রদেশে জীবিকা নির্বাহ দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এমন একটা অবস্থায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরে আসার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশাস দিয়েছেন, সব রকম ভাবে তাঁদের সহযোগিতা করার। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। মমতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘গেরুয়া সন্ত্রাসের’ হাত থেকে রক্ষা পেতে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ঘরে ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলায় ফিরে আসতে রাজ্যের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছেন ৭৫ হাজার ৪৮৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক। প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে বলেই জানা গিয়েছে। আর সেই কারণেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে আবেদন যাচাইয়ের কাজ। ইতিমধ্যে, এক হাজারের কাছাকাছি আবেদনকারী শ্রমশ্রীর সুবিধাও পেয়ে গিয়েছেন বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে চালু হওয়া ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য দুটি সুবিধা প্রদান করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমটি, রাজ্যে ফিরে আসতে এককালীন পাঁচ হাজার টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আবার, ফিরে আসার পর পুনর্বাসন পর্বে এক বছরের জন্য প্রতি পরিযায়ীকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করেও দেবে নবান্ন। এই দুই পরিষেবা গ্রহণের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে প্রকল্পের নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে শ্রম দপ্তর। যা যথাযথ ভাবে যাচাই করে সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে আবেদনকারীদের। অনেক ক্ষেত্রেই যাচাই পর্বে পুলিশেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পের অধীনেই পুনর্বাসনের জন্য প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা পেতে প্রায় ৩ লক্ষ আবেদন এসেছে বলেও জানা গিয়েছে।
এবিষয়ে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানিয়েছেন, ২০১১ সাল থেকেই শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে এখন যখন শ্রমিকরা বাইরের রাজ্যে গিয়ে বিপদে পড়ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেও তিনি এগিয়ে এসেছেন। আর তাঁর চালু করা প্রকল্পের উপর ভরসা রেখেই শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে চাইছেন। যাঁরা ফিরে এসে এখানে কাজ শুরু করছেন কালী পুজোর পর তাঁদের সংবর্ধিত করার চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে। রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই মর্মে সহমত পোষণ করে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের জেরেই বিগত দু-মাসে ‘কর্মসাথী’ পোর্টালে নাম লিখিয়েছেন আরও সাত লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি তাঁদের আরও বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা সুনিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে ‘কর্মসাথী’ পোর্টাল চালু করেছিল রাজ্য। আগষ্ট মাস পর্যন্ত এই পোর্টালে নাম তুলেছিলেন ২২ লক্ষ ৪০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। সেই সঙ্গে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরে চলা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পেও ‘কর্মসাথী’ পোর্টালে নাম তোলার কাজ চলেছে। ফলে বর্তমানে এই পোর্টালে নাম লিখিয়েছেন এমন পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ২৯ লক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই সূত্রের খবর।