নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এলাকার দখলদারিকে ঘিরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর কাজিয়ায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বরানগরে। মারপিটের ঘটনায় বিজেপির সাতজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন। দু’পক্ষের দফায় দফায় মারপিটের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মোট ১৪ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দলের কর্মীরা বিচার চেয়ে সমাজমাধ্যমে আক্রান্তদের ছবি পোস্ট করেছেন।
বরানগরের ন’পাড়া এলাকায় পাশাপাশি ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে। সাংগঠনিকভাবে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটি বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডটি ৩ নম্বর মণ্ডলের মধ্যে পড়ে। শুক্রবার রাতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ ন’পাড়া কলোনির রাস্তা দিয়ে একটি ম্যাজিক ভ্যান দ্রুতগতিতে যাওয়ায় তা নিয়ে ঝামেলা হয়। বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের যুবমোর্চার সহ সভাপতি সোমনাথ মাহাতর (পাপ্পু) নেতৃত্বে দলের লোকজন গাড়ি চালক সঞ্জয় দে’কে আটকে চড় থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। এরপর বিজেপি সমর্থক সঞ্জয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দলবল ডেকে পালটা ঝামেলা করেন। পরে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মীরা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলামাতা লেনের শিবমন্দির লাগোয়া এলাকায় যায়। সেখানে অভিযুক্ত যুবকরা নিয়মিত নেশার আসরে বসে। ওই মদ ও গাঁজার ঠেক ভাঙচুর করা হয়। পাল্টা ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি কর্মীরা ওই যুবকদের পক্ষ নিয়ে ময়দানে নামেন। তাঁদের মারে যুবমোর্চার নেতা সোমনাথ মাহাত ছাড়াও রাজা মাহাত, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সহ সাতজন গুরুতর জখম হন। পুলিশের সামনেই চলে ইটবৃষ্টি। জখম বিজেপি কর্মীদের বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আরেকপ্রস্থ ঝামেলা হয়। ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সৌমেন মিস্ত্রিকে তাড়া করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আসরে নামলে ফের বচসা থেকে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ লাঠি চালিয়ে সবাইকে সরিয়ে দেয়।
বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি নয়না সিংহ বলেন, মদ ও গাঁজার ঠেকে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন যুবমোর্চার নেতা-কর্মীরা। তাই পাশের মণ্ডলের কিছু নেতার উস্কানিতে তাঁদের অনুগতরা দল বেঁধে ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়েছে। প্রায় ১০ জন জখম। সৌমেন মিস্ত্রি বলেন, জোরে গাড়ি চালানোর বিষয়কে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনায় অহেতুক রাজনীতির রং দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি তো দূরের কথা ৪ নম্বর মণ্ডলের কেউ যুক্ত নন। জেলা বিজেপি সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।



