সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং: মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী লোকোশেডের টিনের কাঠামো। বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। এতে সাতজন রেলকর্মী জখম হয়েছেন। এঁদের মধ্যে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী। জখমদের প্রথমে দার্জিলিং সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের আনা হয় শিলিগুড়ির কাছে এনজেপি হাসপাতালে। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের সকলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এদিনই বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কাটিহারের ডিআরএম কিরেন্দ্র নারা। এদিকে, ঘটনার জেরে লোকোশেডে থাকা চারটি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দার্জিলিং-ঘুমের মধ্যে চলাচল করা চারটি জয় রাইড বাতিল করে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ।
ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত ডিএইচআরের দার্জিলিং স্টেশনের পাশেই থাকা এই ঐতিহাসিক লোকোশেডটি কাঠ ও লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি। এদিন সকালে শেডের ভিতরে চারটি স্টিম ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। আচমকাই বিকট শব্দে কাঠামোর একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। শেডের নীচে থাকা কর্মীরা আটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে থাকা সহকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দার্জিলিং সদর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভেঙে পড়া কাঠামো সরিয়ে জখম কর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার জেরে শেড সংলগ্ন রাস্তায় ভাঙা অংশ পড়ে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হয়। ডিএইচআরের পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, জখম সাতকর্মীর মধ্যে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। তবে তাঁদের কারও আঘাত গুরুতর নয়। শেডে থাকা চারটি স্টিম ইঞ্জিন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখছে কারিগরি দল। দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করা হচ্ছে। দার্জিলিং এবং ঘুম স্টেশনের মধ্যে চলা চারটি জয় রাইড বাতিল করা হয়।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএমও বিকেলে ঘটনাস্থলে আসেন। পরিদর্শন শেষে জানান, ঐতিহ্যবাহী এই শেডটি অনেকটাই পুরনো। লোহা ও কাঠের কাঠামোর উপরে ছিল টিন। রাস্তা উপর থেকে মানুষ এই শেডে আবর্জনা ফেলে। তাছাড়া গাছের ডালপালা জমে বৃষ্টির কারণেওজন বৃদ্ধিই ভেঙে পড়ার জন্য দায়ী বলে মনে হচ্ছে। তবে কেউ গুরুতর আহত হননি। কাঠামোটি পুনর্নির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে, এদিনের দুর্ঘটনায় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের হেরিটেজ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, যে লোকোশেডটি এদিন ভেঙে পড়ে সেটি একটি হেরিটেজ সম্পত্তি। এধরনের পুরনো কাঠামো কী অবস্থায় রয়েছে বা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে কিনা, সেই বিষয়ে নজরদারি থাকলে এদিনের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। আগামীতে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে ওয়াকিবহাল মহল। নিজস্ব চিত্র