নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা। তার এক মাসের মধ্যেই কালীপুজো। দর্শনার্থীদের ভিড়ে কলকাতার ফাটাকেষ্টর কালীপুজো বরাবরই প্রথম স্থানে থেকেছে। চোরবাগানের ঘটনার পর এবার ফাটাকেষ্টর কালীপুজো কমিটি আরও সজাগ, আরও সচেতন। যদিও তারা দাবি করেছে, হাজার হাজার দর্শনার্থী একটি সরু গলির ভিতরে মা কালীকে দর্শন করতে আসেন। কীভাবে তাঁরা সুষ্ঠুভাবে মাকে দর্শন করবেন, সেই পন্থা আমাদের ৬৮ বছরের অভিজ্ঞতার ডায়েরিতে রয়েছে। এটাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার রসদ।
কলকাতার কালীপুজোগুলির মধ্যে সেরার তালিকায় থাকে মধ্য কলকাতার নব যুবক সংঘ। যা লোকে চেনে ফাটাকেষ্টর কালীপুজো হিসাবেই। উত্তাল নকশাল আমল থেকে এ পর্যন্ত এই ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর চর্চা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে সুনাম। কলকাতা, মুম্বইয়ের খ্যাতনামা শিল্পীরা এসে মাথা ঠুকে গিয়েছেন কালী মূর্তির সামনে। আর কালীপুজোর দিনে কলকাতা তো বটেই, জেলার মানুষ একবার হলেও ঢুঁ মেরে যান সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের ফাটাকেষ্টর পুজোয়। কালী মূর্তির অপরূপ শোভায় অজান্তেই মাথা নীচু হয়ে যায় আম জনতার। চোখ বন্ধ করে হাত কপালে আর বুকে এসে ঠেকে। ফাটাকেষ্টর কালীপুজো এবছর ৬৯ বছরে পা রাখল।
মাত্র ক’দিন আগেই চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে এখনও বিস্তর চর্চা চলছে। তদন্ত এগচ্ছে। এমতাবস্থায় কালীপুজো সুষ্ঠুভাবে ও নির্বিঘ্নে করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পুজোর উদ্যোক্তা থেকে প্রশাসন। সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে ফাটাকেষ্টর কালীপুজো যেখানে হয়, সেটি অপরিসর একটি গলি। প্যান্ডেল হয় স্টেজের উপর। ওই স্টেজের উপরেই মাতৃ প্রতিমার অধিষ্ঠান। প্যান্ডেলের নীচে একটি প্যাসেজ দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা।
তবে চোরবাগানের ঘটনার পর প্রশ্ন একটাই, দর্শনার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা হচ্ছে? পুজো কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবন্ধ রায় বলেন, আমাদের এখানে দর্শনার্থীদের কোনো অসুবিধা হবে না, এটা হলফ করে বলতে পারি। কেননা আমাদের সবথেকে বড় পুঁজি হল গত ৬৮ বছর ধরে নির্বিঘ্নে পুজো করার অভিজ্ঞতা। দর্শনার্থীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তার জন্য সব ব্যবস্থা থাকে। প্রচুর ভলান্টিয়ার থাকে। বড়ো রাস্তার দু’দিকে দর্শনার্থীদের লাইন পড়ে। তারপর তাঁরা ভিতরের গলিতে প্রবেশ করে মাতৃপ্রতিমা দর্শন করেন। একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যান দর্শনার্থীরা। আর লোকজন কম থাকলে একই পথ দিয়ে ফেরত আসা যায়।
প্যান্ডেলের ত্রিপলে আতসবাজির ফুলকি পরে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তারজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুজো কমিটি। প্যান্ডেলে ত্রিপলের উপর টিন দেওয়া হয়েছে। যাতে জ্বলন্ত আতসবাজি পড়লেও যাতে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেওয়া যায়। এছাড়াও সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে প্যান্ডেল লাগোয়া প্রতিটি বাড়িতে জল ভরতি ট্যাঙ্ক মজুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণ হিসাবেই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা।



