Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়িতে রাতেই ৬৭ শতাংশ পথ দুর্ঘটনা

রাতেই পথ দুর্ঘটনার হার বেশি শিলিগুড়িতে। টানা তিনবছর শহরে গবেষণা চালিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

শিলিগুড়িতে রাতেই ৬৭ শতাংশ পথ দুর্ঘটনা
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: রাতেই পথ দুর্ঘটনার হার বেশি শিলিগুড়িতে। টানা তিনবছর শহরে গবেষণা চালিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের গবেষণাপত্র অনুসারে, দিনের বিভিন্ন সময়ের তুলনায় রাতে দুর্ঘটনার হার সর্বোচ্চ, ৬৭ শতাংশ। এ ধরনের ঘটনা হাসমিচক থেকে কোর্ট মোড়, ইস্টান বাইপাস, মাল্লাগুড়ি থেকে জংশন, হিলকার্ট রোড ও সেভক রোডের বিভিন্ন অংশে ঘটছে। এজন্য গবেষণাপত্রে এলাকাগুলি ‘হটস্পট’ হিসাবে চিহ্নিত। একইসঙ্গে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও চাঙা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক রঞ্জন রায় বলেন, আমরা বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ের ওপর গবেষণা করি। এবার শহরের পথদুর্ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেছি। তাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করেছি। দুর্ঘটনার হার নিয়ন্ত্রণ করতে এই গবেষণাপত্র পুলিশ ও প্রশাসনকে সহায়তা করবে। 
নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই শহর উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। দিন দিন যানজট যেমন বাড়ছে, তেমনই পথদুর্ঘটনাও ক্রমবর্ধমান। অধ্যাপক রঞ্জনবাবু ও গবেষক শুভম রায় এই রিসার্চ করেছেন। তাঁদের গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিতও হয়েছে। 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে গবেষণা শুরু করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চলে। ৩৬ মাসে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত ৩১৫টি পথদুর্ঘটনাকে সামনে রেখেই গবেষণা চালানো হয়। এক্ষেত্রে জিআইএস ও আধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। এজন্য শহরের রাস্তাগুলিকে দু’টিভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। সেই তালিকায় ছিল হিলকার্ট রোড, এশিয়ান হাইওয়ে-২, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, বর্ধমান রোড, ইস্টার্ন বাইপাস প্রভৃতি। আর গলির রাস্তাগুলিকে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে ধরা হয়েছিল। দিনের বিভিন্ন সময় ধরে দুর্ঘটনার সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। 
গবেষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে, পথদুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি রাতে। অর্থাৎ রাত ৮টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত দুর্ঘটনার হার ৬৭ শতাংশ। সকালের ব্যস্ততম সময় ৮-১১টা পর্যন্ত ১৩ শতাংশ, ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ৯ শতাংশ এবং বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১১ শতাংশ। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দিনের বিভিন্ন সময়ের দুর্ঘটনার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন হলেও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পরিবহণ করিডরে দুর্ঘটনা সর্বাধিক। রাতে দুর্ঘটনার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিমিতে ১৪.২১। 
গবেষকদের বক্তব্য, রাতে সফদর হাসমিচক থেকে কোর্ট মোড়, ইস্টার্ন বাইপাস, মাল্লাগুড়ি-শিলিগুড়ি জংশন, হিলকার্ট রোড, সেভক রোডের বিভিন্ন অংশ দুর্ঘটনার ঘনত্ব বেশি। গবেষক শুভম রায় জানান, রাতে গাড়ি গতি বেশি থাকে, কম দৃশ্যমানতা, চালকদের ক্লান্তি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর প্রবণতা প্রভৃতি কারণে দুর্ঘটনাগুলি ঘটছে। এরবাইরে দার্জিলিং মোড়, নৌকাঘাট, চম্পাসারি মোড়, আশিঘর প্রভৃতি এলাকাও দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠছে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রাফিক সিগন্যাল স্মার্ট করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ