নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলিতে নতুন করে প্রায় ৬৫০টি বুথ বাড়তে চলছে। জেলায় বর্তমান বুথ সংখ্যা ৫২৩৭টি। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে এবার ১২০০ ভোটার পিছু একটি করে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করতে হবে। তাই বিভিন্ন বুথ ভেঙে অতিরিক্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু করেছে হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তর। হুগলি নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নির্দিষ্ট নিয়মে বুথ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ চলছে। জন সংখ্যা অনুযায়ী অন্যান্য বুথের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হলে বুথ বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আপাতত ৬৫০-এর বেশি নতুন বুথ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
হুগলি জেলার পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমার চারটি বিধানসভাতেও ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বাড়তে চলেছে। বর্ধিত সেই বুথেই ভোটাররা আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন। ফলে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আরামবাগ মহকুমার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিএমের আরামবাগ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ছোট বুথ হলে ভোট গ্রহণ পর্বের সুবিধা হবে। ভোটারদের রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে আসতে হয়। অনেক সময় ভোট শেষ হতে হতেও রাত হয়ে যায়। তাই ১২০০ ভোটার পিছু বুথ হলে ভালো হবে। এনিয়ে প্রশাসন বৈঠক ডাকলে আমরা প্রয়োজনীয় আলোচনা করব। এখন আমরা জন সংযোগ করছি। তাতে মানুষের সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, প্রশাসন বুথ বিন্যাসের কাজ স্বচ্ছভাবে করছে কি না, আমরা তার উপর নজর রাখছি। তৃণমূলের মদতে বুথগুলিতে হিন্দু ভোটারদের সঙ্গে বঞ্চনা করার চেষ্টা চলছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। তারসঙ্গে কমিশনের কাছে অভিযোগও জানাব। তবে ভোটাররা একইভাবে তৃণমূল ও প্রশাসনের উপর বিরক্ত। তাই সরকার গঠনে মানুষ এবার বিজেপিকেই বেছে নেবে।
তৃণমূলের রাজ্যের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক আরামবাগের স্বপন নন্দী বলেন, বিজেপি সব কিছুতেই তৃণমূলকে ভয় পায়। বুথের বিন্যাসের কাজ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই হচ্ছে। তারপরেও ওদের ভোট পাওয়া নিয়ে নিশ্চয়তা নেই। কমিশন যেভাবেই বুথ করুক না কেন মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে। ফলে বিধানসভা ভোটে ফের আমাদেরই জয়জয়কার হবে।
জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরশুড়া বিধানসভায় ৩০টি অতিরিক্ত বুথ বাড়তে পারে। আরামবাগে বাড়তে পারে ৩৮টি বুথ। গোঘাটে ৪৫টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া খানাকুলে বাড়তে পারে ৫৪টি। জেলাজুড়ে ৬৫০-র বেশি বুথ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসনের অধিকারিকদের মত। তবে নতুন বুথ বাড়ার পর সেখানে কাজের জন্য বিএলও, পর্যাপ্ত ভোট কর্মী মোতায়েন নিয়েও আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অধিকারিকদের একাংশ। প্রশাসনের অবশ্য দাবি, সময়মতো সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে।