Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৬৫ শতাংশ নতুন বিধায়ক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, নিরক্ষর একজন!

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে ১৯০ জনের (৬৫ শতাংশ) বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন আছে।

৬৫ শতাংশ নতুন বিধায়ক ফৌজদারি  মামলায় অভিযুক্ত, নিরক্ষর একজন!
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে ১৯০ জনের (৬৫ শতাংশ) বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন আছে। এর মধ্যে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত মামলা আছে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে (৫৮ শতাংশ)। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪২ (৪৯ শতাংশ), ১১৩ (৩৯ শতাংশ)। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ প্রার্থী হওয়ার সময় এই বিধায়করা যে হলফনামা নির্বাচন কমিশনে জমা দেন তা বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই রিপোর্টের আরো একটি উল্লেখযোগ্য  দিক হল পাঁচজন বিধায়কের শুধুমাত্র অক্ষরজ্ঞান আছে (লিটারেট)। একজন বিধায়ক নিরক্ষর! এই বিধায়কদের নাম উল্লেখ করা হয়নি রিপোর্টে। 

Advertisement

দলগত নিরিখে বিজেপির ১৫২ জন ( ৭৪ শতাংশ), তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫ (৩১ শতাংশ) বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। আইএসএফ, সিপিএম ও জনতা উন্নয়ন পার্টির একজন করে বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। গুরুতর ফৌজদারি মামলা আছে বিজেপির ১৪১ (৬৮ শতাংশ) এবং তৃণমূলের ২৫ জনের বিরুদ্ধে। ১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের মামলা, ৫৪ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা, ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা আছে।  এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে আছে ধর্ষণের মামলা! এক্ষেত্রে দলগত অবস্থানটি অবশ্য রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। ৩৭ জন জয়ী বিধায়ক মহিলা (১৩ শতাংশ)। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৪০। মহিলা বিধায়কের সংখ্যা গতবারের থেকে কমল। 
জয়ী বিধায়কদের মধ্যে ১৭৮ জনের সম্পদের মূল্য কোটি টাকার বেশি। ৬১ শতাংশ বিধায়কই কোটিপতি। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫৮ (৫৪ শতাংশ)। এবার বিজেপির ১১৪ জন (৫৫ শতাংশ), তৃণমূলের ৫৯ জন (৭৪ শতাংশ) কোটিপতি। ১০ কোটি বা তার থেকে বেশি সম্পদ আছে ২৭ জন বিধায়কের। ৫ থেকে ১০ কোটি আছে ৩২ জনের।  সবথেকে সম্পদশালী বিধায়ক বিজেপির মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের দিলীপ সাহা। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে ৪৩ কোটি টাকার। দ্বিতীয় স্থানে আছেন তৃণমূলের কসবার বিধায়ক জাভেদ খান (৩৯ কোটি টাকা)। তৃতীয় স্থানে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস (৩৩ কোটি) আছেন। সবথেকে কম সম্পদ আছে বিজেপির উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক চিরণ বেরার (১৭ হাজার টাকা)। এই নিরিখে  দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছেন আরো দুই বিজেপি বিধায়ক। তাঁরা হলেন রায়গঞ্জের কৌশিক চৌধুরী (৩১ হাজার) এবং হিঙ্গলগঞ্জের রেখা পাত্র (৯৬ হাজার )।
শুধু নিজের বার্ষিক আয়ের নিরিখে এক নম্বরে আছেন বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক পেশায় চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (৪ কোটি)। তাঁর আয়ের উৎস বেতন ও মেডিকেল প্র্যাকটিস বলে জানিয়েছেন।  দ্বিতীয় স্থানে আছেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম (১ কোটি ৭১ লক্ষ)। তৃতীয় স্থানে ওই দলের উলুবেড়িয়া দক্ষিণের বিধায়ক পুলক রায় (১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা)। ব্যবসা এবং ব্যাংকের সুদ প্রভৃতি তাঁদের আয়ের উৎস বলে জানিয়েছেন এই দুজন। ৯২ জন জয়ী বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি। ১৮৫ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তার বেশি। ৯ জন বিধায়ক ডিপ্লোমাধারী। ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সি বিধায়ক ৪৬ জন (১৬ শতাংশ)। ১৮৪ জনের বয়স ( ৬৩ শতাংশ) ৪১ থেকে ৬০-এর মধ্যে। ৫৯ জনের বয়স ৬১ থেকে ৮০-র মধ্যে। ৮০ বছরের বেশি বয়সি বিধায়ক ৩ জন।

সম্পর্কিত সংবাদ