Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেটেছে ৬০৮ দিন, এখনও মেলেনি জল প্রকল্পের টাকা, মোদির দাবির বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে জল জীবন মিশন ইস্যুতে রাজ্যকে লাগাতার আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দাবি করছেন, দিল্লি থেকে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো হলেও, এরাজ্যের গ্রামীণ এলাকার অর্ধেক বাড়িতে এখনও পানীয় জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করেনি রাজ্য।

কেটেছে ৬০৮ দিন, এখনও মেলেনি জল প্রকল্পের টাকা, মোদির দাবির বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে জল জীবন মিশন ইস্যুতে রাজ্যকে লাগাতার আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দাবি করছেন, দিল্লি থেকে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো হলেও, এরাজ্যের গ্রামীণ এলাকার অর্ধেক বাড়িতে এখনও পানীয় জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করেনি রাজ্য। কিন্তু কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাবদ শেষবার দিল্লি টাকা পাঠিয়েছিল ২০২৪ সালের ১৩ আগষ্ট। তার পর কেটে গিয়েছে ৬০৮ দিন। একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও একটি টাকাও দেয়নি মোদি সরকার। এই ইস্যুতে উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের  জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায় জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যে কথা বলা ওঁনার মুখে মানায় না। উনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হলেও, ওঁনার মনে রাখা উচিত, উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে একটাই কথা বলার, ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ কোটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ নিশ্চিত হয়েছে। গ্যারেন্টি দিয়ে বলতে পারি যে গতিতে এরাজ্যে কাজ হয়েছে তা কোথাও হয়নি। 

Advertisement

এই প্রকল্প খাতে প্রতি বছর কেন্দ্রের অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু, ২০২৪ সালে মাত্র আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। তার পর থেকেই বন্ধ অনুমোদন। তবে শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের জন্যই বন্ধ হয়েছিল অর্থ বরাদ্দ। কিন্তু কেন? বিভিন্ন সূত্রে রাজ্য জানতে পেরেছিল, ২০১৯ সালে চালু হওয়া পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০২৪ সালে মার্চ মাসে। তার পরের কয়েক মাস টাকা দেওয়া হলেও, সেই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। ২০২৫-২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করার মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে কেন্দ্র এক বছরের বেশি সময় লাগিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২৬ সালের গোড়ার এসে জারি হয় বিজ্ঞপ্তি। সেই সঙ্গে এই প্রকল্পের কেন্দ্রের অংশের টাকা পেতে একাধিক শর্ত চাপায় মোদি সরকার। যার মধ্যে একটি হল, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের মৌ স্বাক্ষর। দ্বিতীয় শর্ত হল, রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়ে যায়। এখন, ভোট প্রক্রিয়া মিটিয়ে সরকার গঠনের পরেই এই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। এরকম একটা পরিস্থিতিতে রাজ্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার বিষয়টি একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না জোড়াফুল শিবির। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিলেও, নিজের অংশের টাকা দেওয়া চালিয়ে গিয়েছে নবান্ন। কেন্দ্রের তুলনায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে রাজ্যের কোষাগার থেকে। এছাড়াও প্রকল্পের জন্য জমি, বিদ্যুৎ সহ নানা ক্ষেত্রে খরচ করেছে রাজ্য সরকার। 
মহারণ-২৬’এর নির্বাচনী প্রচারে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ নিয়ে মানুষকে বার্তা দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প বাবদ বেশি টাকা খরচ করে রাজ্য। আর বিজ্ঞাপনে নাম থাকে প্রধানমন্ত্রীর। প্রায় এক কোটি বাড়িতে সংযোগ গিয়েছে। ভোট মিটতেই বাকি বাড়িতেও পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ