ঢাকা: মায়ের সঙ্গে মাংস কিনতে বেরিয়েছিলেন ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পড়ুয়া রাফিউল। আচমকা কেঁপে উঠল পায়ের নীচটা। আর সেই ধাক্কায় পাশের একটি পাঁচতলা বাড়ির রেলিং ভেঙে পড়ল মা-ছেলের ঘাড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন রাফিউল। ঠিক সেই সময় নারায়ণগঞ্জে ১০ মাসের সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কুলসুম বেগম। তাঁদের উপর ভেঙে পড়ে রাস্তার ধারে থাকা একটি দেওয়াল। ইট চাপা পড়ে মৃত্যু হয় একরত্তি ফাতেমার। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ নাগাদ (ভারতীয় সময় ১০টা ৮ মিনিট) ভূমিকম্পের জেরে এমনই একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল বাংলাদেশ। অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সরকারি হিসেবে আহতের সংখ্যা অন্তত ২৫০। কম্পনের রেশ অনুভূত হয়েছে এপার বাংলাতেও। কলকাতা-শহরতলি ও সংলগ্ন তিনটি জেলার বাসিন্দারা তা ভালোমতো টের পেয়েছেন। ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় পার্ক স্ট্রিট, সেক্টর ফাইভ সহ বিভিন্ন অফিস পাড়ায়। উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি, মালদহ, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় সামান্য কম্পন অনুভব করেছেন বাসিন্দারা। একই পরিস্থিতি ছিল দক্ষিণবঙ্গের কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, তেহট্ট, নবদ্বীপে। বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৭। তবে মার্কিন সংস্থা ইউএসজিএসের দাবি, তীব্রতা ছিল ৫.৫। শুক্রবার বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন। অন্যান্য দিনের মতো কর্মব্যস্ত ছিল না রাজধানী ঢাকার রাজপথ। তাও বিপত্তি এড়ানো যায়নি। ঢাকার কসাইটুলিতেই রাফিউল সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রাফিউলের মা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলীতে নবনির্মিত বাড়ির দেওয়াল ধসে এক শিশু ও বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে গাজীপুরের সুজিত দাসের। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আতঙ্কের জেরে হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন।



