নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশন রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে, কিন্তু মাঠে ময়দানে কার্যত অস্তিত্বই নেই—ভারতে এমন রাজনৈতিক দলের সংখ্যা নেহাত কম নয়। শুধুমাত্র কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ এমন দলের স্বাভাবিকভাবে জনমানসে প্রভাবও নেই। অথচ অন্তত ৬টি এমনই অখ্যাত দলের ভাঁড়ারে জমা পড়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকার অনুদান! গত লোকসভা নির্বাচনের সময় এই বিপুল টাকা পেয়েছে দলগুলি। এই সব কটি দলই গুজরাত থেকে নথিভুক্ত। তারা মিলিতভাবে যে অনুদান পেয়েছে, তার আগে বিজেপি ছাড়া আর কেউ নেই। এমনকী আম জনমত পার্টি নামে একটি দল একা কংগ্রেসকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে! নির্বাচন কমিশন এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস নামে দেওয়া একটি সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি হিন্দি।
কিন্তু এমন দলগুলিকে কোটি কোটি টাকা দিল কারা? কেনই বা দিয়েছে? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ট্যাক্স ফাঁকি দিতে বা টাকা তছরুপের জন্যই কি এমন ‘কাগুজে’ দলগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এধরনের একটি তথ্য নিয়ে গত বছরই কমিশনের ব্যাখ্যা দাবি করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, কীভাবে এই দলগুলি কয়েক হাজার কোটি টাকা পেল এবং সেই টাকা কোথায় খরচ হল, তা সামনে আনুক কমিশন।
নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানলে কোনো সংগঠনকে ‘রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’ হিসাবে স্বীকৃতি দেয় নির্বাচন কমিশন। গুজরাতের আম জনমত পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল, গরিব কল্যাণ পার্টি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি, সত্যবাদী রক্ষক পার্টি এবং স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি এমনই ‘স্বীকৃতিহীন রেজিস্টার্ড’ দল। এর মধ্যে চারটিরই ঠিকানা আবার আমেদাবাদের নারোদা এলাকা। দেখা যাচ্ছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এরা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস, আপ, বিএসপি, সিপিএম ও এনপিপির মতো জাতীয় দল একই সময় মিলিতভাবে পেয়েছিল ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আম জনমত পার্টি একাই পেয়েছিল ৬২০ কোটি টাকা। যা কংগ্রেসের প্রাপ্ত অনুদানের (২৮১ কোটি টাকা) দ্বিগুণের বেশি। অথচ পাঁচটি জাতীয় দল যেখানে ৮৯৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল, সেখানে ওই স্বীকৃতিহীন দলের প্রার্থী সংখ্যা মাত্র ১৫! ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ও ২০২২ সালে গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও এমন ‘কাগুজে’ দল বিপুল পরিমাণ অনুদান পেয়েছিল। সেগুলির সব কটিই গুজরাতের। দেখা যাচ্ছে, ২০১৯-২০ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে এই ৬টি সহ গুজরাতের মোট ১০টি এমন স্বীকৃতিহীন দল সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে।
এই ঘটনায় কমিশনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘অফিস নেই, কর্মী নেই, ভোটার নেই অথচ এমন কাগুজে দলগুলি কয়েকশো কোটি টাকা করে পেয়ে যাচ্ছে। এই টাকা কি কর ফাঁকি দিতে বা তছরুপে ব্যবহার করা হচ্ছে? এই টাকা কারা দিচ্ছে? কোথায় যাচ্ছে ওই টাকা? কেন কমিশন ও আয়কর দপ্তর পদক্ষেপ করতে পারছে না? আমরা ইতিমধ্যেই এনসিপিআইয়ের কথা জানি, যেখানে ২০ জন বিশ্বাসঘাতক সাংসদ আশ্রয় নিয়েছেন।’



