


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধারণ মানুষের মতামত অনুযায়ী এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ২ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। ইতিমধ্যে ৩১ হাজার ৪৫৭টি শিবির আয়োজিত হয়েছে গোটা রাজ্যে। ইতিমধ্যে বাংলাজুড়ে অসংখ্য স্কিমের কাজ চালু হয়ে গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি এই কর্মসূচি সাড়া ফেলেছে রাজ্যের ১২৮টি পুর এলাকায়ও। শুধুমাত্র পুর এলাকাগুলিতেই উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, স্কুলবাড়ি মেরামতি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংস্কার, স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা, কমিউনিটি টয়লেট তৈরির মতো ৫৫ হাজার ৮৪টি স্কিম অগ্রাধিকার সহকারে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য।
রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, একমাত্র বাংলাতেই এভাবে মানুষের মতামত নিয়ে স্কিম নির্দিষ্ট করে কাজের নজির গড়েছে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’। পুর এলাকার মানুষ যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পুর এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত স্কিমের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীন স্টেট আর্বান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সুডা)। প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিন দিন কাজের অগ্রগতি যাচাই করতে পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন সুডার পদস্থ কর্তারা। বৈঠক চলছে শনিবারও। সাধারণ মানুষের কাছে স্কিমের সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে ছুটির দিনেও কাজ করার আর্জি জানানো হচ্ছে পুরসভাগুলিকে। ধারাবাহিক নজরদারির ফলে স্কিমগুলির আনুমানিক খরচ হিসেবের পাশাপাশি পুনর্যাচাই বা ভেটিংয়ের কাজ এগিয়েছে দ্রুত। তবে স্কিম রূপায়ণের জন্য দরপত্র ডাকার আগে প্রয়োজন পড়ে জেলাশাসকের অনুমোদনের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পুর এলাকার ৩৯ হাজার ৭৫৬টি স্কিম অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে জেলাশাসকদের কাছে। যার মধ্যে ৩১ হাজার ৪৫৫টি স্কিমের অনুমোদন মিলেও গিয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদ জেলায় স্কিমের অনুমোদন দেওয়ার হার অনেকটাই কম বলে সূত্রের খবর। সেই কারণে এই জেলার দরপত্র ডাকার হারও যথেষ্ট কম। রাজ্যের প্রতিটি পুর এলাকায় মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৩৩টি স্কিমের দরপত্র বা টেন্ডার ডাকার কাজ শেষ হয়েছে।
আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নেওয়া স্কিমগুলির কাজ শেষের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নবান্ন। মোট আট হাজার কোটি টাকা খরচ ধার্য করা হয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য। ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যের জন্য নবান্নের তরফে চার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী টাকা দেওয়া হচ্ছে পুরসভাগুলিকে।