


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: যুবসাথীর ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের অন্তর্বর্তী বাজেটে মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা দিতে যুবসাথী প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পালাবদলের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হবে না। উলটে বেকার ভাতা বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার অঙ্গীকার করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু প্রথম দফায় যাঁরা যুবসাথীর টাকা পেয়েছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকে আর নাও পেতে পারেন। কারণ, প্রত্যেক আবেদনকারীর তথ্য ফের যাচাই হবে। তারপর মিলবে বেকার ভাতার টাকা। তবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জুন মাসের শুরু থেকে দেওয়ার ব্যাপারে আরও কিছুটা এগিয়ে গেল রাজ্য। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়ে গিয়েছে। যদিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সব মহিলা এই আর্থিক সহযোগিতা পাবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে মহিলারা আয়কর দিয়ে থাকেন, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় নেই। বয়সসীমা হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছর। তারপর অবশ্য বার্ধক্যভাতার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীরাও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সুযোগ থাকবে না শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা কোনো সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত মহিলাদেরও। যাঁদের আবেদন মান্যতা পাবে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকে যাবে ৩ হাজার টাকা। সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অবশ্যই আধার সংযোগ থাকতে হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের নাম অন্নপূর্ণা যোজনায় সরাসরি ‘মাইগ্রেট’ হবে ঠিকই, কিন্তু উল্লিখিত শর্ত বজায় রেখে। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে মহিলাদের নাম বাদ গিয়েছে, বা অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকায় যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও এই তিন হাজার টাকা পাবেন না। অনলাইন ও অফলাইনে ১ জুন থেকেই নতুন আবেদন নেওয়া হবে।
কিন্তু যুবসাথীর যাবতীয় আবেদন এবং উপভোক্তার তথ্য ফের যাচাইয়ের প্রয়োজন হল কেন? ৭ মার্চ এই প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে টাকা দেওয়াও শুরু হয়। প্রথমেই প্রায় এক লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। তারপর ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হয় মোট ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে। কিন্তু, পরবর্তীতে প্রশাসনিক মহলের কাছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসংগতি দেখা দেয়। স্বল্প সময়ে টাকা ছাড়তে গিয়ে উপভোক্তা তথ্যের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রশাসনের অন্দরেই। তাই সরকার মনে করছে, তথ্যের পুনর্যাচাই দরকার। একই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দু’বার টাকা পড়ার ঘটনা ঘটছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। এ পর্যন্ত মার্চ এবং এপ্রিল মাসের টাকা ছাড়া হয়েছে। প্রতি মাসে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। সাধারণত যুবসাথীর টাকা মাসের ১০ তারিখ ছাড়া হয়। কিন্তু মে মাসের শুরুতেই পালাবদল হয়ে যাওয়ায় এই পর্বে আর যুবসাথী বা বেকার ভাতার টাকা বাংলার যুবক-যুবতীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। যেহেতু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে নতুন বিজেপি সরকার স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে, তাই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ১ জুন থেকে নিশ্চিত হলেও, আপাতত বেকার ভাতার টাকা বন্ধ থাকবে। পুনর্যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শিবিরের পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমেও জমা নেওয়া হয়েছিল যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন। ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন নেওয়ার কাজ চলেছে। তার কয়েকদিনের মধ্যে টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় তথ্য নিয়ে সংশয় থেকেই গিয়েছে। ইতিমধ্যে শিবিরে জমা পড়া আবেদন ডিজিটাইজ করা হয়েছে। ফলে সমস্ত তথ্য রাজ্যের কাছে জমা আছে। ফলে পুনর্যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলেই মত প্রশাসনিক মহলের। আবার, নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু আবেদনকারীকে সুবিধা প্রদান করাও সম্ভব হয়নি পূর্বতন সরকারের পক্ষে। সে ক্ষেত্রে ডবল ইঞ্জিন সরকার পড়ে থাকা আবেদন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেও এখন নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর।