Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল প্রতীকের দাবিদার বিদ্রোহী ৫২ জন বিধায়ক, আজ দ্বারস্থ বিধানসভা স্পিকারের

তৃণমূলের বিদ্রোহী ৫২ জন বিধায়ক আজ বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিলেন। অভিষেকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপনকারী বিধায়কদের দাবি জানানো হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

তৃণমূল প্রতীকের দাবিদার বিদ্রোহী ৫২ জন বিধায়ক, আজ দ্বারস্থ বিধানসভা স্পিকারের
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল পরিষদীয় দলে বিদ্রোহের আঁচ আরও বাড়ছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা জ্ঞাপনকারী’ বিদ্রোহী বিধায়করা সংগঠিত হচ্ছেন। গত রবিবার কালীঘাটে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠক ‘বয়কট’ করে আসরে নেমেছিলেন বিদ্রোহীরা। এরপর সোমবার কিড স্ট্রিটের এমএলএ হস্টেলে বৈঠকের মধ্যে দিয়ে নিজেদের রণকৌশল চূড়ান্ত করেন তাঁরা। সূত্রের খবর, সই ‘জাল’ কাণ্ড ফাঁস করে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে সামনে রেখে ‘প্রেশার ব্লক’ তৈরি করেছেন বিদ্রোহীরা। ৫০ জনেরও বেশি বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি আজ, বুধবার বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা করবেন তাঁরা। 

Advertisement

প্রথম পর্যায়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে বিরোধী দলনেতার পদ এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রকৃত তৃণমূল হিসাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জোড়াফুল ‘সিম্বল’ দাবি করার পথে বিদ্রোহীরা এগচ্ছেন বলে খবর। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এদিন ফের এমএলএ হস্টেলে জড়ো হন বিদ্রোহীরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতার কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ক গত রবিবার মধ্যমগ্রামের এক ‘ঘাঁটিতে’ জড়ো হয়ে ‘প্রেশার ব্লকে’ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলে যে ধরনা কর্মসূচিতে তৃণমূল সুপ্রিমো অংশ নিয়েছিলেন, তাতে বিদ্রোহী শিবিরের কাউকে দেখা যায়নি। হাতেগোনা কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদকে নিয়ে কর্মসূচি সারতে হয়েছে। বিজেপি সূত্রের কটাক্ষ, ১৫ থেকে ১৭ জন বিধায়কের বেশি আর কেউ নেই কালীঘাটের সঙ্গে। এই পর্বে রাজ্যের নতুন মন্ত্রী তাপস রায়ের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট ‘মমতা তৃণমূল’ ভাঙার সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এদিন সকালে তাপসবাবুর পোস্ট—‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হল। ৫০ জন বিধায়ক নিয়ে স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত, খেলা হবে!’ তবে নতুন তৃণমূলের জল্পনা ঩জিইয়ে রেখে ঋতব্রতর ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য, ‘আমি আজ’-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে জানি না, বলতে পারব না!’
এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরে ‘গৃহদাহ’ যে অব্যাহত, তা মমতার দুর্দিনে সহযোদ্ধা জাভেদ আহমেদ খানের কথায় স্পষ্ট। কসবার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এদিন বলেছেন, ‘পার্টির মধ্যে গণতন্ত্র ছিল না। আমাদের বক্তব্য কেউ শুনতেন না। শুনলেও কোনো অ্যাকশন হত না। বেশিরভাগ লোকই এখন এটাই বলছেন। শীর্ষ নেতৃত্ব এর জন্য দায়ী, অন্য কেউ নয়।’ সোমবার কিড স্ট্রিটের বিদ্রোহীদের ‘আড্ডায়’ শামিল হয়েছিলেন জাভেদ সাহেবও। যদিও তিনি বলেছিলেন, চায়ের আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। আজ, বুধবার নবান্ন সভাঘরে হাওড়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে অংশ নিয়ে বিদ্রোহীরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে।  
অপরদিকে, বিধায়কদের সই জাল কাণ্ড নিয়ে সিআইডি তদন্তের মাঝেই এদিন ফের অভিষেকের সই করা বিধানসভার স্পিকারকে লেখা একটি চিঠি জমা দিতে যান কুণাল ঘোষ ও অসীমা পাত্র। কিন্তু স্পিকারের সচিব বা দপ্তরের কেউই সই চিঠি গ্রহণ করতে রাজি হননি। পেপারওয়েট চাপা দিয়ে তা স্পিকারের টেবলে রেখে আসেন কুণালরা। এই চিঠির সঙ্গে বিধায়কদের সই সম্বলিত তালিকা অবশ্য ছিল না। ২০০৬ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত যেভাবে স্পিকারকে চিঠি লিখে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি চাওয়াটা প্রথা, এবারও তাই করার আরজি জানানো হয়েছে অভিষেকের চিঠিতে। 

সম্পর্কিত সংবাদ