নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নীলাচলের পথে মহাপ্রভু। রাঘব পণ্ডিতের বাড়িতে হরিনামের মহামন্ত্রে মাতিয়ে দিয়েছেন পানিহাটিবাসীকে। সবাই সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন তাঁর সঙ্গে। হরিনাম প্রচারের গুরুদায়িত্ব পার্ষদদের কাঁধে চাপিয়ে তিনি নৌকায় সওয়ারি হলেন। মহাপ্রভু দর্শনে গঙ্গার দুই তীরে ভক্তদের ভিড়। বরানগরে আশ্চর্য ভাগবৎপাঠে মোহিত হয়ে একটানা ন’ঘণ্টা নেচে ছিলেন মহাপ্রভু। পায়ের নূপুর খুলে গিয়েছিল। মূর্ছা গিয়েছিল ভক্তরা। মহাপ্রভুর সেই আগমন তিথি ধরে আজও নৌকাপথে মহাপ্রভুর পট নিয়ে ভক্তরা যাত্রা করেন পানিহাটি থেকে বরানগর। গুরুবন্দনা, হরিনাম সংকীর্তন, ভাগবৎপাঠ ও মহাপ্রসাদ সংগ্রহে মেতে ওঠেন হাজার হাজার ভক্ত।
নীলাচলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মহাপ্রভু। ঘনিষ্ঠ পার্ষদদের সঙ্গে দেখা করে লীলা করতে করতে এগচ্ছেন। চৈত্র মাসের দশমীতে নৌপথে পৌঁছলেন রাঘব পণ্ডিতের বাড়ি। মহাপ্রভুর আগমনে নামগানে মাতোয়ারা ভক্তরা। দ্বাদশীর দুপুরে প্রসাদ গ্রহণের পর তিনি বরানগরে ভাগবতাচার্যের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। নৌপথে মহাপ্রভুর সঙ্গে ছিলেন পার্ষদরা। তারপর দক্ষিণেশ্বরের আগে গদাধর পণ্ডিতের বাড়িতেও কিছু সময় নামগান করে সন্ধ্যায় পৌঁছন বরানগরের ভাগবতাচার্যের বাড়ি। সেখানে পৌঁছনোমাত্রই ভাগবৎপাঠের মাধ্যমে মহাপ্রভু ও তাঁর পার্ষদদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন ভাগবতাচার্য। আর সেই ভাগবৎগানে মোহিত হয়ে একটানা বিরামহীনভাবে নেচে ছিলেন মহাপ্রভু।
কালের নিয়মে এই বিশেষ দিন ও তিথি ভুলে গিয়েছিলেন বহু মানুষ। এবার পালিত হচ্ছে মহাপ্রভুর ৫১১তম শুভাগমন স্মরণোৎসব। ভাগবতাচার্যের সেই বাড়ি এখন বরানগর পাঠবাড়ি। শতাধিক বছর আগে পাঠবাড়ির প্রাণপুরুষ মহারাজ রাধারমণচরণ দাসদেব মহাপ্রভুর এই লীলা নতুন করে পালন চালু করেন। সেই থেকে নৌকায় মহাপ্রভুর পট সাজিয়ে ভক্তরা নৃত্য করতে করতে আসেন বরানগরে। রাঘব পণ্ডিতের বংশধর তথা রাঘব ভবনের মুখ্য উপদেষ্টা রাধাগোবিন্দ গোস্বামী বলেন, দশমী থেকে শুরু হয়েছে মহাপ্রভুর নামগান ও হীরনাম সংকীর্তন। দ্বাদশী পালন করে মহাপ্রভু রওনা দেবেন বরানগর। শ্রীশ্রীরাঘব পণ্ডিত সেবা সমিতির কোষাধ্যক্ষ সূর্যকান্ত কুণ্ডু বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ৭০০ বেশি ভক্ত প্রসাদ পাবেন। এরপর দুটি নৌকা ও দুটি ভেসেলে প্রায় ছ’শো ভক্ত নৌপথে যাবেন পাঠবাড়ি। গঙ্গার দুই তীরে হাজার হাজার মানুষ উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে মহাপ্রভুকে অভ্যর্থনা জানাবেন। পাঠবাড়ির মহারাজ রঘুনাথরমন দাস বাবাজি বলেন, পাঠবাড়িতে এই বিশেষ তিথিতে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়ে গিয়েছে। চৈতন্য চরিতামৃতের বর্ণনা অনুযায়ী সমস্ত আয়োজন হবে। মহাপ্রভুর অব্যর্থনা, ভাগবৎপাঠ, নামগানসহ সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ। শুক্রবার কয়েক হাজার হাজার ভক্ত মহাপ্রভুকে দর্শন করে মহাপ্রসাদ নেবেন।