Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬

ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যে বদলি ৫০৯, বাংলাতেই ৪৮৩ জন

ভোট হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। সেই লক্ষ্যপূরণে গত ১৭ দিনে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের মোট ৫০৬ জন আধিকারিককে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। আশ্চর্যের বিষয়, শুধু বাংলারই ৪৮৩ জন রয়েছেন সেই তালিকায়।

ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যে বদলি ৫০৯, বাংলাতেই ৪৮৩ জন
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভোট হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। সেই লক্ষ্যপূরণে গত ১৭ দিনে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের মোট ৫০৬ জন আধিকারিককে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। আশ্চর্যের বিষয়, শুধু বাংলারই ৪৮৩ জন রয়েছেন সেই তালিকায়। একেবারে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার থেকে ওসি, আইসি, বিডিও পর্যন্ত। বাকি তিনটি রাজ্য অসম, কেরল, তামিলনাড়ু মিলিয়ে বদলির সংখ্যা মাত্র ২৬। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে একজনও নয়। অর্থাৎ, অন্য তিন ভোটমুখী রাজ্যের তুলনায় ২১ গুণ বেশি বদলি বাংলায়! বৃহস্পতিবার এই পরিসংখ্যান সামনে আসামাত্র প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার শাসক শিবিরের দাবি, ২০২১ সালে গোটা বিধানসভা নির্বাচন পর্বে মাত্র ১৫ জন আধিকারিককে বদলি করেছিল কমিশন। কিন্তু এবার ভোট ঘোষণা হতে না হতে পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে বদলির গুচ্ছ গুচ্ছ নির্দেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কার্যত বিজেপির কথাতেই চলছে কমিশন!

Advertisement

গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার পর রাতেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার সহ ৭৯ জন আধিকারিককে বদলি করে কমিশন। ১৭ ও ১৮ মার্চ—পরপর দু’দিন আরও ৩৮ জন আইপিএস ও ১৩ জন আইএস অফিসারকে বদলি করা হয়। ২৩ ও ২৯ তারিখে সরানো হয় ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে। এছাড়াও বদলি করা হয় ৮৩ জন বিডিও, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং ১৮৪ জন আইসি-ওসিকেও। এমনকি, ১৩ জন আইপিএস অফিসারকে ভিনরাজ্যের ভোটে অবজার্ভার করেও পাঠিয়েছে কমিশন।
সরকারি স্তরে এই ব্যাপক রদবদলের তীব্র বিরোধিতা করে ইতিমধ্যে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, কমিশনের এই পদক্ষেপ ‘স্বেচ্ছাচারী ও নজিরবিহীন’। বদলির সামগ্রিক পরিসংখ্যান সামনে আসার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা এখন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে নেই। এখানে ৪৮৩ জন প্রশাসনিক আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অন্য তিন রাজ্য মিলিয়ে মাত্র ২৩ জন! কেন এমন দ্বিচারিতা? মুখ্যমন্ত্রী অনেক আগে থেকেই বলছিলেন যে, নতুন অফিসাররা বাংলার জনবিন্যাস বা মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। যাঁরা এখন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে কিছুই জানাচ্ছেন না।’
নির্বাচন কমিশনের অবশ্য দাবি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, ‘যাঁদের আচরণ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, এমন আধিকারিকদের আমরা দায়িত্বে রাখতে পারি না।’ বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ