নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডায়মন্ড পার্কে এক বধূর হত্যা রহস্যের কিনারায় প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারছেন না তদন্তকারীরা। কারণ অভিযুক্ত কোনও মোবাইল ব্যবহার করেন না, তাঁর কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও নেই। তাই পুরনো পন্থার দ্বারস্থ পুলিস। ফেরার ‘খুনি’র হদিশ দিলে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করল হরিদেবপুর থানা। এই মর্মে অভিযুক্ত কার্তিক দাসের ছবি সহ একটি পোস্টার বিলি করছেন তদন্তকারীরা।
সংবাদপত্রেও এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওয়ান্টেড এই ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি খারাপ। চিহ্নিতকারী ব্যক্তির নাম পরিচয় গোপন রাখা হবে। অভিযুক্তের হদিশ পেলে ৯৮৭৪২৩১০২৭ বা ৭৫৯৫৮৩৯৬০৭ নম্বরে ফোন করে হরিদেবপুর থানার পুলিসকে জানানো যাবে।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করা হয়েছে। পুলিস সূত্রের দাবি, ৬ সদস্যের ওই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আবদুল্লাহ সানা।
২৩ জানুয়ারি হরিদেবপুর থানা এলাকার ডায়মন্ড পার্কের ‘এ’ ব্লকের একটি বাড়ির একতলায় বধূ ছায়া সর্দারের (৩২) মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের গলা কাটা ছিল। হাত ও পা বেঁধে তাঁকে খুন করা হয়। কাটারি জাতীয় কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কাটা হয় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করেন তদন্তকারীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, বছর দু’য়েক আগে কার্তিক দাসের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ছায়ার। দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু, বিয়ের এক বছরের মাথাতেই আলাদা থাকতে শুরু করেন ছায়া। একটি অবৈধ সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৭ জানুয়ারি সেই যুবকের সঙ্গেই ডায়মন্ড পার্কের একটি বাড়ির একতলা ভাড়া নিতে আসেন ছায়া। ওই যুবককে স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। স্ত্রীর নতুন সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই ডায়মন্ড পার্কের ওই বাড়িতে এসে তাঁকে বেঁধে গলা কেটে খুন করে চম্পট দেন কার্তিক।