নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ডিজিটাল অ্যারেস্ট থেকে ফোনে কেওয়াইসি আপডেট! কখনও শেয়ার বাজারে মোটা অঙ্কের রিটার্নের টোপ দিয়ে বিনিয়োগ। এভাবেই গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। দিন দিন বাড়ছে সাইবার প্রতারণা। এই লুটের টাকা রাখা হয় ভাড়া করা মিউল অ্যাকাউন্টে। কীভাবে পাওয়া যায় মিউল অ্যাকাউন্ট? এক লাখে ৫ হাজার টাকা! ৫ শতাংশ কমিশনে সাইবার প্রতারকদের দেদার অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিচ্ছে তরুণরা! বিনা পরিশ্রমে রোজগারের টানেই বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। সম্প্রতি, মিউল অ্যাকাউন্ট কাণ্ডে তদন্তে নেমে বিধাননগরে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা সাইবার প্রতারণায় টাকা লুট করা মাত্রই মিউল অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেয়। একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। অনেক সময় প্রতারকরা এজেন্ট মারফত গ্রাহকদের তথ্য নিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলায়। বহুক্ষেত্রে গ্রাহক জানেন না, কী কাজে ব্যবহার হবে! আবার বহু গ্রাহক জেনে বুঝেই নিজের অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারকদের ভাড়ায় দিচ্ছে।
গত আগস্ট মাসে বিধাননগর কমিশনারেট এলাকায় একাধিক মিউল অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছিল। সেখানে সাইবার প্রতারণার লক্ষ লক্ষ টাকা স্থানান্তর হয়েছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের উপর নজর রাখছিল পুলিশ। ২১ আগস্ট বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ সুয়োমোটো মামলাও রুজু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ ৪ সেপ্টেম্বর ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃতদের মধ্যে ৫ জনেরই বয়স ছিল ২০-২৪ বছর! তবে, তারা কেউ ভিন রাজ্যের নয়। রাজারহাট, কাঁকুড়াগাছি, সল্টলেক, বাগুইআটির বাসিন্দা। জেরায় জানা যায়, তারা স্বেচ্ছায় সাইবার প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিল। মিউল অ্যাকাউন্টের আর একটি চক্রে ১৩ সেপ্টেম্বর বিধাননগর পুলিশ একসঙ্গে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারাও প্রতারকদের সম্মতি দিয়েছিল অ্যাকাউন্ট ভাড়ার জন্য। সাইবার প্রতারণার টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। ওই টাকা তারা অন্যত্র ট্রান্সফার করেছে। ব্যাংকে গিয়ে চেক দিয়ে ক্যাশও তুলেছে। এটিএম কার্ড দিয়েও টাকা তুলেছে।
ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার জন্য এক লাখে ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত কমিশন দিত। অর্থাৎ, ৩-৫ শতাংশ টাকা। তার মধ্যে ৫ শতাংশের কমিশনই বেশি। তাতেই লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়েছে তারা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, সাইবার প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার অর্থ, প্রতারণার সঙ্গেই যুক্ত থাকা। ফলে, ভারতীয় আইন অনুযায়ী শাস্তিও ভোগ করতে হবে। যদি কারও অজান্তে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেন হয়, তাহলে দ্রুত পুলিশকে অবগত করতে হবে। তা না হলে সেই অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে।



