Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিসি নজর নেই! হাওড়া স্টেশনে ৫০০ ‘গ্রে এরিয়া’, বসবে আরও ক্যামেরা, সাদা পোশাকে টহল

গোটা স্টেশনে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা মেরেকেটে ২৫০। ফলে হাওড়া স্টেশনের আনাচে-কানাচে এমন বহু জায়গা রয়ে গিয়েছে, যেখানে পুলিসের নজর পৌঁছয় না। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা।

পুলিসি নজর নেই! হাওড়া স্টেশনে ৫০০ ‘গ্রে এরিয়া’, বসবে আরও ক্যামেরা, সাদা পোশাকে টহল
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গোটা স্টেশনে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা মেরেকেটে ২৫০। ফলে হাওড়া স্টেশনের আনাচে-কানাচে এমন বহু জায়গা রয়ে গিয়েছে, যেখানে পুলিসের নজর পৌঁছয় না। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। যেমন, গত ৫ মার্চ স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্স থেকে এক শিশুকন্যাকে অপহরণ করে রাজস্থানে পাচার করা হয়েছিল। জিআরপির তৎপরতায় শিশুটি মায়ের কোলে ফিরলেও হাওড়া স্টেশনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রেল পুলিসকে। ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিস স্টেশনের সেই জায়গাগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে, যেখানে তাদের নজরদারি সেই অর্থে নেই। পুলিসি পরিভাষায় যাকে বলে ‘গ্রে এরিয়া’। সেই সূত্রে হাওড়া স্টেশনে ৫০০’র বেশি ‘গ্রে এরিয়া’ চিহ্নিত করেছে পুলিস। ঠিক হয়েছে, প্রতিটি জায়গায় বসানো হবে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। গভীর রাতেও প্ল্যাটফর্মে টহল দেবেন সাদা পোশাকের মহিলা পুলিসকর্মীরা। 

Advertisement

হাওড়া স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্স থেকে শিশুকন্যা অপহরণের পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকে বসে জিআরপি ও আরপিএফ। এন্ট্রি ও এগজিট পয়েন্ট, প্ল্যাটফর্ম সহ গোটা হাওড়া স্টেশন খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তারা। তাতেই চিহ্নিত হয় ৫০০টিরও বেশি জায়গা, যেখানে সিসি ক্যামেরার নজরদারি নেই। তাই কোনও অপরাধ ঘটানোর পর সবার নজর এড়িয়ে স্টেশনের বাইরে চলে যাওয়া কার্যত জলভাত হয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীদের কাছে। তাই শীঘ্রই অত্যাধুনিক ৫০০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে ওই সব কোনায়। প্রতিটি ক্যামেরায় থাকবে এফআরএস বা ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম। হাওড়া জিআরপির এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘প্রতিটি গ্রে এরিয়ায় ক্যামেরা লাগানো হবে। স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ প্ল্যাটফর্মের শেড কিংবা ট্রেনের ইঞ্জিনের মাথায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির উঠে পড়ার মতো ঘটনা আটকাতেও সিসি ক্যামেরার নজরদারি কাজে লাগবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 
প্রসঙ্গত, ৫ মার্চ হাওড়া স্টেশনে মহিলার শিশুকন্যাকে রীতিমতো ছক কষেই অপহরণ করেছিল পাচারকারীরা। রাতভর প্ল্যাটফর্মে থেকে শিশুটির মায়ের সঙ্গে থেকে আলাপ জমানো থেকে শুরু করে শিশুকে লজেন্স দিয়ে আস্থা অর্জন—সবটাই করেছিল অভিযুক্ত সাহানারা বেগম। ভোরের দিকে প্ল্যাটফর্মে পুলিস থাকা সত্ত্বেও তাদের নজর এড়িয়ে শিশুকন্যাকে নিয়ে চম্পট দেয় সে। এই ধরনের ঘটনা এড়াতে এবার থেকে প্ল্যাটফর্মে সাদা পোশাকে মহিলা পুলিস মোতায়েন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। হাওড়া জিআরপির ওই কর্তা আরও বলেন, ‘এতদিন স্টেশনে কোনও জিনিসপত্র পাচার কিংবা চোর- পকেটমারদের দৌরাত্ম্য কমাতে নজরদারি চালানো হতো। কিন্তু শিশু পাচার চক্রে মহিলাদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তাই এই সিদ্ধান্ত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ