Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নন্দীগ্রাম থেকে ‘এক ডাকে অভিষেক’ নম্বরে প্রতিদিন ফোন আসছে ৫০০টি

পথ দেখিয়েছে ডায়মন্ডহারবার। এবার সেই পথে হাঁটছে নন্দীগ্রাম। ‘এক ডাকে অভিষেক’ নম্বরে ফোন করে নন্দীগ্রামের আম জনতা আর্জি জানাচ্ছেন, সেখানেও চালু হোক সেবাশ্রয় কর্মসূচি। আবার কারও আবেদন, এই বিধানসভা এলাকাতেও পূরণ করা হোক সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ-সমস্যা।

নন্দীগ্রাম থেকে ‘এক ডাকে অভিষেক’ নম্বরে প্রতিদিন ফোন আসছে ৫০০টি
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী , কলকাতা:

Advertisement

পথ দেখিয়েছে ডায়মন্ডহারবার। এবার সেই পথে হাঁটছে নন্দীগ্রাম। ‘এক ডাকে অভিষেক’ নম্বরে ফোন করে নন্দীগ্রামের আম জনতা আর্জি জানাচ্ছেন, সেখানেও চালু হোক সেবাশ্রয় কর্মসূচি। আবার কারও আবেদন, এই বিধানসভা এলাকাতেও পূরণ করা হোক সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ-সমস্যা।
২০২২ সালের ১৮ জুন ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের জন্য সেখানকার সাংসদ চালু করেছিলেন ‘এক ডাকে অভিষেক’। একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করে ডায়মন্ডহারবারের সাধারণ মানুষ তাঁদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ফোন মারফত যে সমস্ত সমস্যা আসছিল, তার দ্রুত সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেন অভিষেক। সাধারণ মানুষ যেভাবে পরিষেবা পাচ্ছিলেন, তার প্রভাব পড়ে ডায়মন্ডহারবার ছাড়িয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যান্য প্রান্তে। পরবর্তী সময়ে রাজ্যের উত্তর প্রান্ত কোচবিহার থেকে দক্ষিণের কাকদ্বীপ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শয়ে শয়ে ফোন আসতে থাকে এক ডাকে অভিষেক নম্বরে। চিকিৎসাজনিত পরিষেবা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা উঠে আসে ওই ফোন নম্বর মারফত। 
ঘটনাচক্রে এবার রাজ্যের যে প্রান্ত থেকে সর্বাধিক ফোন কল আসছে, তাতে নতুন কিছু সন্ধান পাচ্ছে ‘এক ডাকে অভিষেক’ টিম। প্রতিদিনই অজস্র ফোন আসছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকা থেকে। দৈনিক গড়ে ৫০০টি। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফোন কল এসেছে ৪৮৩টি। বেশিরভাগ লোকের আবেদন, ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে যেমন সেবাশ্রয় কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, তেমনটাই চালু হোক নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকাতেও। বিরুলিয়ার বাসিন্দা বাপি বারিক বলেন, ‘আমরা চাইছি ডায়মন্ডহারবারের মতো নন্দীগ্রামেও স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির চালু করা হোক। এতে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হবেন।’ কুহেলি মাইতি দিন্দা বলেন, ‘ডায়মন্ডহারবারবাসীর পাশে সবসময় থাকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ডায়মন্ডহারবারে যে স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির চালু করেছেন, সেটা অনুরূপভাবে আমাদের এখানেও চালু করলে সকলের সুবিধা হবে, এটাই আমাদের আবেদন।’ ‘এক ডাকে অভিষেক’ ফোন টিম লক্ষ্য করেছে, নন্দীগ্রাম থেকে আসা ফোনের সংখ্যা গত ৫-৬ দিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগেই কেরলে দুর্ঘটনার অকালে প্রাণ হারান বাংলার শ্রমিক ভীমচরণ বারিক। ভিন রাজ্য থেকে দেহ আকাশপথে কলকাতায় নিয়ে আসা এবং বিমানবন্দর থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া ও ওই পরিবারের পাশে থেকে সর্বতোভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য অভিষেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন ভীমচরণ বারিকের পরিবারের সদস্যরা। রামপদ বারিক বলেন, ‘ডায়মন্ডহারবারবাসীর পাশে অভিষেক আছেন, তার প্রমাণ আগেই পেয়েছি। এবার আমরাও তা দেখতে পেলাম। আমাদের প্রত্যাশা, গ্রামের সকল মানুষের পাশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়ান, বিশেষ করে, স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়ে।’ বস্তুত, অভিষেক ডায়মন্ডহারবারে ৭৫ দিন ব্যাপী সেবাশ্রয় কর্মসূচি করেছিলেন। সেখানে শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকাতেই। তার মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় এবং ওষুধ পান এলাকার মানুষ। ডায়মন্ডহারবার বাদ দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যান্য প্রান্ত এবং বেশ কয়েকটি জেলা থেকেও সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়েছিলেন। এবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও সাধারণ মানুষের সেবাশ্রয়ের আর্জি আসছে। ডায়মন্ডহারবার মডেল সার্থক কি এই কারণেই? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ