


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: কন্যাশ্রী পাইয়ে দেওয়ার জন্যও এক ছাত্রীর বাবার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এমন অভিযোগ মিলেছে নামখানার ফ্রেজারগঞ্জের নারায়ণীতলা ধনেশ্বর শিক্ষাসদন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল থেকে। এনিয়ে ওই স্কুলছাত্রী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে, নামখানার বাসিন্দা পৃথ্বীকা দাস এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি এই স্কুলেই পড়াশোনা করতেন। তাঁর অভিযোগ, কন্যাশ্রীর ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য একদিন স্কুলের পক্ষ থেকে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি স্কুলে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শুভ্রনীল প্রামাণিকের সঙ্গে দেখা করেন। তখন শুভ্রনীলবাবু তাঁর অভিভাবককে ডেকে নিয়ে আসার কথা বলেন। পরে পৃথ্বীকার বাবা প্রভাত দাস তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগ, সেই সময় স্কুলের উন্নয়নের অজুহাত দিয়ে তাঁর কাছ থেকে দশ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি অনুরোধ করে সেটি কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করেন। কথা মতো সেই টাকাও তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন। পৃথ্বীকার বাবা প্রভাত দাস বলেন, টাকা দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের কাছে রশিদ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা দেননি।
অন্যদিকে পৃথ্বীকা বলেন, বাবা কলকাতায় একটি কোম্পানিতে সাধারণ কাজ করেন। অভাবের সংসারে কন্যাশ্রীর টাকাটা পেলে অনেকটাই উপকার হয়। কিছুদিন আগে কন্যাশ্রীর ২৫ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু তার মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দিতে হয়েছে। এই টাকা রাজ্য সরকার ছাত্রীদের উন্নয়নের জন্য দিচ্ছে। সেখানেও ভাগ বসানো হচ্ছে। বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
যদিও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শুভ্রনীল প্রামাণিক বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কন্যাশ্রীর টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য কোনো ছাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় না। ওই ছাত্রী কন্যাশ্রীর টাকা পেয়েও গিয়েছেন। পুজোর আগে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। অন্য ছাত্রীরাও একসঙ্গে টাকা পেয়েছে। কিন্তু তাঁরা তো কেউ কিছু বলেনি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই বিষয়টি নিয়ে স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি মুক্তেশ্বর মিদ্যা বলেন, আমরা একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারপরই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।