নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘ চারমাস ধরে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ। শনিবার নির্বাচন কমিশন প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। কোথায় কত নাম বাদ গেল, সেটা নিয়ে কৌতূহল ছিল তীব্র। পাশাপাশি বিচারাধীন আবেদন নিয়েও চিন্তায় আছেন অনেক ভোটার। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই প্রাথমিক চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গিয়েছে ৫০ হাজারের মতো নাম। এর পাশাপাশি বিচারের অপেক্ষায় পাঁচ লক্ষাধিক ভোটার। ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, সেটা নিয়ে ওই ভোটাররা বেশ আতঙ্কিত। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও এনিয়ে চাপা টেনশন আছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টিতেই এক হাজারের কম করে নাম বাদ গিয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন ব্লকে তালিকা আসতে শুরু করে। কৌতূহলী মানুষজন বারেবারে খোঁজ নিয়েছেন ব্লক ও পঞ্চায়েত অফিসে। জেলা সূত্রের খবর, খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৭৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৭৬ জনের।
প্রাথমিক চূড়ান্ত তালিকায় নাম প্রকাশিত হয়েছে ৭৮ লক্ষ ৪ হাজার ১৮২ জনের। ধরে নেওয়া হচ্ছে, প্রায় ২৮ হাজার নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভা ভিত্তিক হিসেব বলছে, জেলার এইআরও এবং ইআরও’রা হিয়ারিং করে অনেক নাম বাদ দিয়েছেন। কারণ অনেকেই পর্যাপ্ত নথি দেখাতে পারেননি। বেশ কিছু শুনানিতে হাজির না হওয়া ভোটারও আছেন। এর বাইরেও মৃত, অন্যত্র চলে গিয়েছেন– এমন বেশ কিছু ব্যক্তির নামও আছে। তবে তালিকা নিয়ে অভাব-অভিযোগ সেভাবে না এলেও পাথরপ্রতিমার উত্তর মহেন্দ্রপুরের বাসিন্দা আব্দুল গনি ও তাঁর স্ত্রীর নাম বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু দম্পতির দুই ছেলের নাম উঠেছে তালিকায়।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে। এই দুই বিধানসভা মিলিয়ে ১৬ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাতিল করেছেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। তারপরই আছে কাকদ্বীপ (প্রায় ৬ হাজার)। পাশাপাশি খুব কম নাম বাদ যাওয়া কেন্দ্রগুলির মধ্যে প্রথমেই আছে ফলতা। এখানে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটারের মধ্যে মাত্র ৩২ জনের নাম বাদ পড়েছে। বিচারাধীন রয়েছে ৭০৪৪ জনের নাম। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ লেগেই থাকতো। সেখানেই সিংহভাগ ভোটার নাম উঠেছে, অর্থাৎ তাঁরা উপযুক্ত নথি দেখাতে পেরেছেন। এছাড়াও ১০০-র কম ভোটার বাদ গিয়েছে মেটিয়াবুরুজ ও মগরাহাট পূর্ব কেন্দ্রে। শহুরে বিধানসভাগুলির মধ্যে কসবা ও বেহালা পশ্চিমে হাজারের একটু বেশি করে নাম ডিলিট হয়েছে। তবে শেষমেশ বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে কতজনের নাম তালিকায় ঠাঁই পায়, এখন সেদিকেই নজর সব মহলের।