সংবাদদাতা, বারুইপুর: সল্টলেকে চার চাকা গাড়ির বেপরোয়া গতির বলি হয়েছেন এক ডেলিভারি বয়। সেই ঘটনার রেশ এখনও চলছে। তার মধ্যেই আবারও লাগামহীন গতির মাশুল গুনতে হল পথচারীদের। যদিও এই ঘটনায় প্রাণহানি হয়নি। তবে পাঁচজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং বারুইপুর রোডে কুড়ালি ছআনি এলাকায়। অভিযোগ, পুলিসের স্টিকার লাগানো গাড়িটি ছুটে এসে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িকে প্রথমে ধাক্কা মারে। সেখানেই ভ্যানে মালপত্র তুলছিলেন পাঁচজন। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদেরও ধাক্কা মারে। এই ঘটনার পর গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান চালক। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এঁদের মধ্যে সৈরফ লস্কর ও কামাল লস্কর নামে দুজন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি আর একজন বারুইপুরের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। তাঁর নাম অবশ্য পাওয়া যায়নি। হানিফ আলি এবং লাদেন সর্দার নামে দুজনকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজনের মাথা ফেটেছে ও অপরজনের বুকে আঘাত লেগেছে। আহতরা কুড়ালি ও কুলপির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিস ঘাতক গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এদিন ক্যানিং থেকে বারুইপুরের দিকে আসছিল গাড়িটি। তার গতি অনেক বেশি ছিল। কুড়ালি ছআনির কাছে আসতেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে চালক এই দুর্ঘটনা ঘটায়। গাড়ির একটি অংশ দুমড়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কোনওমতে গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান চালক। তাঁকে ধরা যায়নি। এ প্রসঙ্গে পুলিস জানিয়েছে, গাড়িতে শুধু চালকই ছিলেন। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। গাড়ির নম্বর প্লেট ও অন্যান্য তথ্য দেখে মালিকের নাম জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। গাড়িটি কোনও পুলিস আধিকারিকের নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে স্টিকার মেরে যাচ্ছিলেন, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



