Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশ সীমান্তে ৫ ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’!

ডিটেকশন, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট—অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যের নয়া সরকারের এই ‘থ্রি-ডি’ তত্ত্ব লাগু হওয়া মাত্রই ডিটেনশন ক্যাম্প বা হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়। সীমান্তবর্তী আরেক জেলা উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ও বনগাঁ মহকুমায় নতুন করে পাঁচটি হোল্ডিং সেন্টার তার যাত্রা শুরু করল।

বাংলাদেশ সীমান্তে ৫ ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’!
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ডিটেকশন, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট—অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যের নয়া সরকারের এই ‘থ্রি-ডি’ তত্ত্ব লাগু হওয়া মাত্রই ডিটেনশন ক্যাম্প বা হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়। সীমান্তবর্তী আরেক জেলা উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ও বনগাঁ মহকুমায় নতুন করে পাঁচটি হোল্ডিং সেন্টার তার যাত্রা শুরু করল। এর মধ্যে বসিরহাট মহকুমায় তিনটি এবং বনগাঁ মহকুমায় দু’টি ভবনকে হোল্ডিং সেন্টার হিসাবে বাছাই করা হয়েছে। বুধবার থেকেই বসিরহাট মহকুমার তেঁতুলিয়া, চারঘাট এবং মেদিয়ার ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’এর কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ভিড় করেছে ‘ভীতসন্ত্রস্ত’ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। যাদের কেউ চোরাপথে এদেশে এসেছে ৫-১০ বছর আগে। আবার কেউ মাত্র সাত-আট মাস আগে। এদেশে এসে ভারতীয় সাজার তাগিদে অর্থের বিনিময়ে প্যান, আধার, ভোটার কার্ড বানালেও, এদিন শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া নাগরিক পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে বিএসএফর দ্বারস্থ হয়েছে তারা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিএসএফ। বাংলাদেশি নাগরিক প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টারগুলিতেই রাখা হবে বলে বিএসএফ সূত্রে খবর। পর্যায়ক্রমে তাদের বাংলাদেশে ‘ডিপোর্ট’ করা হবে। 

Advertisement

এদিকে, সীমান্তবর্তী বনগাঁ মহকুমা প্রশাসনের কাছেও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির জন্য নবান্নের নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে। এই নির্দেশ আসার পরেই পেট্রাপোল সীমান্তে অব্যবহৃত একটি সরকারি ‘হোম’কে হোল্ডিং সেন্টার হিসাবে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। আগাছা-আবর্জনা সাফ করে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংযোগ স্থাপনের কাজও এদিন শুরু হয়েছে। এরই পাশাপাশি পেট্রাপোল স্টেশনের কাছে আরও একটি ভবনকেও হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছে মহকুমা প্রশাসন। জানা গিয়েছে, গাইঘাটা, বনগাঁ ও বাগদার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমস্ত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে পাকড়াও করা হবে, তাদের এই হোল্ডিং সেন্টার দুটিতে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পর্বেই অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে হাবড়া, অশোকনগর, কল্যাণগড়, বনগাঁ, গাইঘাটা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই হাবড়া-অশোকনগর এলাকা থেকে জনা কুড়ি অনুপ্রবেশকারীকে পাকড়াও করে বসিরহাটের হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া জেলার ভীমপুরে অঘোষিত এক হোল্ডিং সেন্টারে অনুপ্রবেশের দায়ে ধৃত এক বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে লালগোলার চাটাইডুবি থেকে রাজশাহীর একজন এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকার আরেকজনকে মুর্শিদাবাদের হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ