Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিষেক হেনস্তায় ধৃত ৫, কর্মসূচি জানানো হয়নি, দাবি পুলিশের

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার ঘটনায় দেশজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। একদিকে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, আর তার সূত্র ধরেই হাই প্রোফাইল জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন।

অভিষেক হেনস্তায় ধৃত ৫, কর্মসূচি জানানো হয়নি, দাবি পুলিশের
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার ঘটনায় দেশজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। একদিকে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, আর তার সূত্র ধরেই হাই প্রোফাইল জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন। এই সমীকরণে রবিবারও তোলপাড় হয়ে থাকল রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতি। ঘটনার পর ‘তৎপর’ সোনারপুর থানার পুলিশ ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে চিহ্নিতকরণের পর এদিনই গ্রেপ্তার করল পাঁচজনকে। যদিও শনিবার সাংসদকে এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুসি মারা এবং ডিম ছোড়ার সময় একজন সিভিক ভলান্টিয়ারকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। এ নিয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলার দাবি, সাংসদ এখানে যে আসবেন, সে ব্যাপারে আগাম কিছু জানানো হয়নি। পুলিশের পরামর্শও নেওয়া হয়নি। তবে ‘জনরোষ’ অভিষেকের উপর আছড়ে পড়ার পরই অ্যাকশন মোডে নেমে পড়ে সোনারপুর থানা। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে শুরু হয় ধরপাকড়। তারই ফল এই গ্রেপ্তারি। ধৃতদের মধ্যে একজন সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী আকাশ গায়েন বলে দাবি স্থানীয় কাউন্সিলার অনিতা বোসের। বাকিরা বিজেপি কর্মী বলে দাবি তৃণমূলের। 

Advertisement

পুলিশের দাবি, আকাশ গায়েনই অতি সক্রিয়তার সঙ্গে সাংসদকে মারধর করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অবশ্য তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, এই যুবক বিজেপি কর্মী। বেশ কিছু ছবিও তাঁরা প্রকাশ করে তা প্রতিষ্ঠিত করেছে। পুলিশ মহলেরও একাংশ জানিয়েছে, আকাশ সদ্য তৃণমূল থেকে শিবির বদলে পদ্মপার্টিতে নাম লিখিয়েছেন। তবে ধৃতের মা শঙ্করী গায়েনেরই দাবি, ‘ছেলে তৃণমূল করত। বুথে বসেছে কয়েকবার।’ আকাশের অন্য একটি পরিচয়ও অবশ্য আছে। তিনি ভালো ফুটবল খেলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার মারধরের ঘটনার পর ফুটবল খেলতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও এই ঘটনায় ধৃত নির্মাল্য ওরফে জয় সেনগুপ্ত তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবেই পরিচিত। তবে তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি নিজেই। আদালতে তোলার সময় জয় বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল করছি। আমি কেন অভিষেককে মারতে যাব?’ পুলিশের একটি সূত্র বলছে, তপন মাইতি নামে আরও এক ধৃত সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত। দেবাশিস দত্ত ও কাজল দাস নামে বাকি দু’জন তৃণমূল থেকে সদ্য বিজেপি হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এঁরা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি বিজেপির। যদিও লাভলি তা অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ধৃতদের প্রত্যেকেই সক্রিয় বিজেপি কর্মী। কেউ এলাকায় থাকে। কেউ বহিরাগত।’
শনিবার যে তাঁর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোলমাল হতে পারে, তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন বলেই স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে খবর। স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে কাউন্সিলার, প্রত্যেকেই দাবি করেছেন, সতর্ক করা হয়েছিল অভিষেককে। তা সত্ত্বেও তিনি মৃত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পৌঁছে যান। কাউন্সিলার অনিতা বসুর স্বামী হেমন্ত বসু বলেন, ‘গোলমালের আঁচ পেয়েই আমরা অভিষেকবাবুকে এখানে আসতে বারণ করেছিলাম। কিন্তু তিনি দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে আসেন।’ কেন তিনি সতর্ক হলেন না? কেন সঞ্জুর বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে গাড়ি ছেড়ে মোটর বাইকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড? পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা কেন? হাসপাতালে কেন তাঁকে ভরতি নেওয়া হল না? এইসব প্রশ্নে ঘটনার পর থেকেই শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। অভিষেকের চিকিৎসায় অনীহার অভিযোগ তুলে তোপ দাগেন স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মমতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছিলেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ